1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের মন্তব্যের জের;বিএমএসএফ প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জওহর লাল সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন বরগুনার তালতলী উপজেলা প্রকৌশলীর অডিও ভাইরাল; বদলিতে ৮-১০ লাখ টাকা লাগে  রাজাপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু মালয়েশিয়া ও চীন সফর থেকে কী অর্জন করলেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঝালকাঠিতে মিলন হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে ট্রলার জব্দ, শ্রমিকদের জরিমানা সাপাহার আমের ভারে নুইয়ে পড়া এক ‘ম্যাংগো হাব রায়পুরে মা ও তিন মেয়ে হত্যাকাণ্ড: অপরাধের দায় ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার সময় টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিষিদ্ধ চায়না জাল ধ্বংসে প্রশাসনের কঠোর অভিযান, পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে জব্দকৃত জাল

রায়পুরে মা ও তিন মেয়ে হত্যাকাণ্ড: অপরাধের দায় ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার সময়

  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাসভবনে মা ও তিন মেয়েকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার যে ঘটনা ঘটেছে, তা আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এই অমানবিক হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার একটি ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠছে, যা একই সাথে অপরাধ ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে।ঘটনার আড়ালের সত্যতা:আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূলে কাজ করেছে চরম বিকৃত মানসিকতা ও ব্যক্তিগত আক্রোশ। জানা যায়, অভিযুক্ত অনন্ত মজুমদার নামের এক ব্যক্তি পূর্বে নিহতদের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন এবং নিহত শাহিনূরের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে, সে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে। পানির মিস্ত্রি সেজে কৌশলে ঘরে প্রবেশ করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।অপরাধ বনাম অপপ্রচারের সমীকরণ:আমাদের দেশে যখনই কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তখন একটি গোষ্ঠী অতি উৎসাহী হয়ে এটিকে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করে। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন মহলে ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন’ নিয়ে যে বানোয়াট বয়ান তৈরির অপচেষ্টা চলছে, রায়পুরের এই ঘটনা তার অসারতা আবারও প্রমাণ করেছে। একজন অপরাধী যদি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এমন নৃশংসতা করার সাহস পায়, তবে তা কেবল তার ব্যক্তিগত অপরাধ প্রবণতারই পরিচয় দেয়; এর সাথে কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের যোগসূত্র স্থাপন করা কেবল অযৌক্তিকই নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।আইনি সুরক্ষা ও সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা:একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই। রায়পুরের ঘটনার পর যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের নাগরিক সমাজকে সতর্ক হওয়ার তাগিদ দেয়। যারা ব্যক্তিগত অপরাধকে সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বহিঃবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়, তাদের এই হীন ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমি মনে করি, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। একই সঙ্গে, যারা এই মর্মান্তিক ঘটনাকে পুঁজি করে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপতৎপরতা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক কঠোরতা প্রয়োজন। আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যেন দ্রুত সম্পন্ন করা হয় এবং এর আড়ালে থাকা নেপথ্যের কুশীলবদের খুঁজে বের করা হয়।পরিশেষে, কোনো ব্যক্তিবিশেষের অপরাধকে ঢাল বানিয়ে যারা দেশের অসাম্প্রদায়িক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চায়, তাদের দেশবিরোধী প্রচারণার মুখোশ উন্মোচন করা আজ প্রতিটি বিবেকবান নাগরিকের দায়িত্ব। ন্যায়বিচারের পথ সুগম হোক, গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক আমাদের দেশপ্রেম।রিপোর্টটি জনস্বার্থে প্রকাশিত।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...