’বিশেষ প্রতিবেদন: মোঃ সোহেলনওগাঁর সাপাহারের চিত্র এখন যেন এক বিশাল ‘আমের নগরী’। জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটার সড়কের দুপাশ জুড়ে শুধুই আমের সমারোহ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ী, আড়তদার, চাষি ও শ্রমিকের পদচারণায় এখন মুখর পুরো এলাকা। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন, কীভাবে শুধু আমকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই বাণিজ্যিক কেন্দ্র।ভৌগোলিক সুবিধায় গড়ে ওঠা ম্যাংগো হাবভৌগোলিক অবস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিপুল পরিমাণ আমের সরবরাহের কারণে সাপাহার এখন দেশের একক বৃহত্তম ‘ম্যাংগো হাব’ বা আমের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত। একসময়কার বরেন্দ্র অঞ্চলের শুষ্ক ও উঁচু জমিতে ধান চাষে যে পরিমাণ লাভ হতো, গত ১২-১৫ বছরে আম চাষে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমি থেকে কৃষকরা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নিট মুনাফা অর্জন করছেন, যা এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।উৎপাদন ও লক্ষ্যমাত্রানওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সাপাহার উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হয়েছে। এখান থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।স্বাদ ও গুনে অনন্যস্বাদ, সুবাস ও পুষ্টিগুণে সাপাহারের আম এখন দেশজুড়ে একটি নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড। বিশেষ করে ‘আম্রপালি’ (রূপালি) এবং ‘বারি-৪’ জাতের আমের চাহিদা তুঙ্গে। বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদ ও উন্নত পরিচর্যার কারণেই এই আম এখন সবার পছন্দের শীর্ষে।নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিআমের ভরা মৌসুমে বাজার ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ। বাগান, চাষি ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় দিন ও রাত মিলিয়ে দুই পালায় অন্তত ৪০ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। একই সাথে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।যানজট: এক বড় চ্যালেঞ্জবিশাল এই বাণিজ্যকেন্দ্রকে ঘিরে প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই সংকট নিরসনে দ্রুত একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ অথবা আমের আড়তগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ও আলাদা জায়গা নির্ধারণ করা জরুরি। আপাতত যানজট এড়াতে সকালের দিকে নওগাঁ-মহাদেবপুর-পোরশা সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।উপসংহারসাপাহারের আমের বাজার শুধু অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে না, সৃষ্টি করছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান। মানসম্মত ও টাটকা আমের সন্ধানে কিংবা আমের রাজধানী সাপাহারের প্রাণচাঞ্চল্য দেখতে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি এক অনন্য গন্তব্য।