নিজস্ব প্রতিবেদক
এক সময়ের ঢাবির ছাত্র লীগের নেতা ২৪’র জুলাই ছাত্র জনতার আন্দোলন দমনে ডিএমপি’র সমন্নয়ক ডিসি হেডকোয়ার্টার আলমগীর হোসেন বীর দর্পে বহাল। বর্তমানে রংপুর রেঞ্জে কর্মরত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন (বিপি নং- ৭৯০ ৬১১১ ১৪৩) প্রশাসন ও অর্থ। তাঁর বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই নানাবিধ অপরাধ অপকর্মের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কর্ম কমিশন সচিবালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাঁকে চাকরি থেকে অভ্যাহতির সুপারিশ করে। কিন্তু তৎকালীন আইজিপি শহীদুল হক, বেনজির আহমেদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাবিবুর রহমান হাবিব এবং হারুন উর রশিদ গংদের সক্রিয় সহায়তায় চাকরিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলমগীর হোসেন সাবেক ছাত্র লীগের নেতা বিবেচনায় পুর্নবহাল করেন। পাশাপাশি তাঁকে একাধিক পদোন্নতি দিয়ে ডিএমপির ডিসি হেডকোয়ার্টার (প্রশাসন ও ক্রাইম) হিসেবে নিয়োগ দেন। শুরু হয় সরকার বিরোধী ছাত্র জনতার গনআন্দোন। পুলিশ কর্তৃক আন্দলন দমন কমিটির ডিসি হেডকোয়ার্টার হিসেবে আলমগীর হোসেন অন্যতম সমন্নয়কের দায়িত্ব পালন করেন। অন্তবর্তিকালিন সরকারের সময়ে তাঁকে রংপুর রেঞ্জে বদলী করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ সর্বোচ্চ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আলমগীর হোসেন সাবেক ছাত্র লীগের নেতা বিবেচনায় পিপিএম,বিপিএম পদকও দিয়ে ধন্য করেন। তাঁর বিষয় নিয়ে বিগত আওয়ামী সরকারের সময় থেকে এপর্যন্ত স্বয়ং পুলিশ বিভাগের মধ্যেই চলছে নানাবিধ নেতিবাচক আলোচনা। এসপি আলমগীর হোসেনের (বিপি নং-৭৯০ ১১১ ১৪৩) বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক এবং বিগত ২৪’র জুলাই আগষ্টের ছাত্র জনতার বিরুদ্ধে নেতিবাচক ভুমিকার অভিযোগ থাকার পরও কি ভাবে এখনও বহালতবিয়তে বীরদর্পে পুলিশে কর্মরত রয়েছেন এনিয়ে সর্বমহলে চলছে নানাবিধ আলোচনা। ( ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার সরকার বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে দমন পিড়নের অন্যতম সমন্বয়ক ও ডিএমপির কমিশনার হাবিবুর রহমানের আস্তাভাজন ডিসি ডিএমপি হেডকোয়ার্টার আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ৬১১১ ১৪৩ এর সীমাহীন দুর্নীতি,লাম্পট্য ও পাশবিকতার জীবন্ত তথ্যে গা শিউরে ওঠে। তাঁর আমলনামা ব্রেকহীন গাড়ির মতো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে তাঁর দিক নির্দেশনায় মাঠ পুলিশ নির্বিচারে ছাত্র -জনতারকে পাখির মতো গুলি চালিয়ে ঝাঁজরা করে হত্যা, একসময় নিজে স্বশরীরে মাঠে গিয়ে গুলি চালায়। এছাড়াও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে গুমের চেষ্টা, খোদ থানার ভেতরেই অসহায় নারীকে পৈশাচিক ধর্ষন এবং নিরীহ মানুষের চোখ কলম দিয়ে খুঁচিয়ে উপড়ে অন্ধ করার মতো মমধ্যযুগীয় বর্বরতার নায়ক এসপি আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩। তাঁর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, পুলিশ হেডকোয়ার্টার, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক উচ্চ পর্যায়ের তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ বারবার প্রমানিত হয়। এমনকি পিএসসি কর্তৃক আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ কে চাকরি থেকে চুড়ান্ত ‘বরখাস্ত ‘ ( Dismissal from Service) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করার পরও বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তবর্তিকালিন সরকার এবং বর্তমান গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিএনপি সরকার তাঁর শরীরের একটা পশমও এপর্যন্ত স্পর্শ করতে পারেনি। উল্টো বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো বর্তমানেও তাঁকে বহাল তবিয়তে চাকরিে রাখা হয়েছে।) বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এর পিছনে ছিল এক চরম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আঁতাত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিতর্কিত ছাত্র লীগ নেতা হওয়ার সুবাদে এবং সেই পুলিশ ক্যাডার-২৫ কোটার’ অন্ধ প্রভাবে আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ এর খুঁটির জোর ছিলো আকাশচুম্বী। আর এই সুযোগে আইন ও বিভাগীয় নিয়মনীতিকে সম্পুর্ন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলে বীর দর্পে। সেই সময় ত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হন বিগত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক ডিএমপির কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিবির প্রধান হারুন উর রশিদ গং। এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সরাসরি আর্শীবাদ ও ক্ষমতার কালো থাবায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। শুধু চাকরিতে পুনর্বহালই নয়, উপহার হিসেবে আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ কে পর পর দুটি পদোন্নতি। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ডিএমপির কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবের মদদে আলমগীর হোসেন কে ডিএমপিতে পোস্টিং দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিসি ডিএমপি হেডকোয়ার্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্হানে। সেই সময় চলছিল জুলাই ছাত্র জনতার গনআন্দোলন। এই সময়ে নিজের পারফরম্যান্স দেখাতে ডিএমপির কমিশনারের পক্ষে বেতারে ৮ বিভাগের ডিসি,এসি,এডিসি, থানার ওসিসহ বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তাকে আন্দোনকারীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিতে থাকেন। এমনকি ডিসি ডিএমপি হেডকোয়ার্টার আলমগীর হোসেন ধরাকে সরা জ্ঞান করে নিজেও মাঠে নেমে আগ্নেয়াস্র হাতে নিয়ে গুলি চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মাঠে নামার পর মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা তখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে চালায় আন্দোলনকারিদের উপর নির্বিচারে গুলি চালাতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বৈরাচার নরপিশাচ এসপি আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ জুলাই আগষ্টের পর প্রথম দিকে গা-ঢাকা দিলেও পরবর্তীতে কৌশলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাঁর সমস্ত অপরাধ অপকর্ম আড়াল করে ডিএমপির ডিসি হেডকোয়ার্টার আলমগীর হোসেন বাগিয়ে নেন রংপুর রেঞ্জের পোস্টিং। রংপুর রেঞ্জেও চতুর এসপি আলমগীর হোসেন বাগিয়ে নিয়েছেন এসপি প্রশাসন ও অর্থ এর মতো প্রভাবশালী পদ। এসপি আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ এর বিরুদ্ধে তদান্তের পুলিশ হেডকোয়ার্টার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিপত্রের সূত্রে জানাযায়, ২০১১ সালে মৌলভীবাজার জেলায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কর্মরত থাকা অবস্থায় আলমগীর হোসেন ও তাঁর কথিত ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা মিলে জেপিএল ডোর এন্ড ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিজ ও জালালাবাদ প্রোডাক্টস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীবের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এরপর টাকা লোন,বাকিতে দামি দামি ফার্নিচার ও গাড়ি কেনা বাবদ প্রায় অর্ধ কোটি টাকা সুকৌশলে হাতিয়ে নেন এই পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।পরবর্তীতে ব্যবসায়ী সজীব নিজের পাওনা টাকা ফেরত চাইতেই বিপর্যয় ঘটে। ব্যবসায়ী সজীব কে নানাভাবে হয়রানি করেন উশৃংখল এই পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। এক পর্যায়ে পাওনাদার ব্যবসায়ী সজীব কে স্তব্দ করতে ২০১২ সালের ৭ আগষ্ট সজীবের ঢাকার বনস্রীস্হ বাসা থেকে ফিল্মি কায়দায় অপহরণ করে গুম করার উদ্দেশ্যে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ ও তাঁর সঙ্গীয় বাহিনী। কিন্তু সে-সময় স্হানীয় জনতা ও উপস্থিত মিডিয়া কর্মীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে মিশন ব্যর্থ হলে তাঁকে সরাসরি মৌলভীবাজার মডেল নিয়ে যায় আলমগীর হোসেন। মৌলভীবাজার মডেল থানায় নিয়ে মাত্র ৪৫ মিনিটের ব্যবধানে ব্যবসায়ী মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ৫ টি সাজানো বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা রেকর্ড করেন এই উশৃংখল পুলিশ কর্মকর্তা। সেই সময় এই পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন কে মদদ দেন তৎকালীন ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের চিফ হুইপ সাবেক কৃষি মন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এবং তাঁর ছোট ভাই মোসাদ্দেক হোসেন মানিক। উশৃংখল এই পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন মাত্র ৪৫ মিনিটের ব্যবধানে মৌলভীবাজার মডেল থানায় যে ৫ টি মামলা ব্যবসায়ী সজীবের বিরুদ্ধে দায়ের করান। সেই সব মামলার বাদি করেন আলমগীর নিজের খালাতো ভাই সোহেল রানা, বান্ধবী ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা, এবং নিজের বডিগার্ড নাজিমুদ্দিন কে। উশৃংখল এই পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন নিজের প্রভাব খাটওয়ে এসব মিথ্যা বানোয়াট মামলায় ব্যবসায়ী সজীবকে রিমান্ডে নিয়ে চালান অমানবিক নির্যাতন নিপীড়ন। পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ এর এমন অপেশাদার কার্যক্রমে মৌলভীবাজার মডেল থানার তৎকালীন পুলিশ সদস্যরা কিছু বলতে না পাড়লেও হতবাক হয়ে সকল নির্যাতন নিপীড়ন চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া তাদের কিছুই করার ছিল না। ব্যবসায়ী সজীবের রিমান্ড শেষে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় জেলে পাটানো হয়। ব্যবসায়ী সজীবের উপর পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীর কর্তৃক এমন অমানবিক নির্যাতনের ফলে জেপিএল ডোর এন্ড ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিজের শত শত শ্রমিক কর্মচারীদের রুটি রোজীর কর্মস্থল ধবংশ হয়ে যায়। এদিকে ব্যবসায়ী সজীবের অভিযোগ তদন্ত করে প্রমানিত হওয়ায় এসপি আলমগীর হোসেনের বান্ধবী ডাক্তার রাজিয়া সুলতানাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে চাকরি থেকে চুড়ান্ত ভাবে বহিষ্কার করেন। অন্যদিকে এসপি আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ এর বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক তদন্ত করে প্রমান পাওয়ার পরও তাঁর পশম হেলাতে পারেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য যে, পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন কর্তৃক এই পৈশাচিক নির্যাতন নিপীড়নের প্রতিকার চেয়ে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম সজীব ২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আলাদা দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার উচ্চ পর্যায়ের দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্তে এসপি আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ এর বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি পৈশাচিকতার বাইরেও আরো একাধিক অপরাধ অপকর্মের সত্যতা ও প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা অনুযায়ী আলমগীর হোসেন কে চাকরি হতে বরখাস্ত (Dismissal from Service) করার গুরুদন্ড প্রদান করে পিএসসি’র চুড়ান্ত মতামত চায়। একই বছরের ২১ অক্টোবর পাবলিক সার্ভিস কমিশনও (পিএসসি) আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ কে পুলিশের চাকরি থেকে চিরতরে বরখাস্ত করার স্বপক্ষে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন। দেশব্যাপী ও স্বয়ং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি করা উশৃংখল এই পুলিশ কর্মকর্তার কর্মকাহিনী। তাঁকে চুড়ান্ত বরখাস্তের আদেশকে বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করে নানাবিধ কৌশলে পার পেয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। এদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির কমিশনার হাবিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রভাব খাটিয়ে সকল নিয়মনীতি ও তদন্তকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করে বিসিএস পুলিশ ক্যাডার-২৫ আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ কে চাকরিতে পুনর্বহাল করেন। ২০২৪’র সরকার বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন দমন করতে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয় ডিএমপির ডিসি হেডকোয়ার্টার হিসেবে। দায়িত্ব পেয়ে ডিসি আলমগীর হোসেন ছাত্র জনতার জুলাই আন্দোলন দমনে রাজধানীর রাজপথে ছাত্র জনতার রক্তে হোলিখেলা শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, আলমগীর হোসেন মৌলভীবাজার কুলাউড়া সার্কেলের দায়িত্বে থাকাবস্হায় খোদ থানা কম্পাউন্ডেই এক অসহায় নারীকে পৈশাচিক ভাবে ধর্ষন করেন৷ এই নারীর স্বামী লিটন হাসান ইমন প্রতিবাদ করলে তাঁকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাটান। পরবর্তীতে কৌশলে আবারও তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে তার চোখে কলম দিয়ে খুছিয়ে খুছিয়ে আঘাত করে অন্ধ করেন। এই লোমহর্ষক ঘটনার বিষয়েও পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগও প্রভাবিত করে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসপি আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ এর সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা এবিষয়ে কথা বলতে চাননি। তবে এসব কর্মকর্তা এসপি আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ এর নানাবিধ অপকর্মের বিষয়ে শোনেছেন এবং জানেন বলে জানান। এইসব বিষয়ে আইজিপির সাথে যোগাযোগ করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ হেডকোয়ার্টারের জনৈক উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তা আলাপ প্রসঙ্গে জানান, এসপি আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। এসব অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে। উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব কর্মকর্তাদের নানাবিধ নেতিবাচক অপকর্মের কারনে আজ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এইসব পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমান গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক সরকারের সময়েও কেমন করে বহাল তবিয়তে চাকরি করতে পারছে ! এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এসপি আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ এর বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত চলমান রয়েছে। এদিকে বিগত অন্তবর্তিকালিন সরকার ও বর্তমান গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক সরকারের সময়ে ডজন ডজন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অভ্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে কিন্তু এসপি আলমগীর হোসেন বিপি নং- ৭৯০ ১১১ ১৪৩ এর মতো পুলিশ কর্মকর্তা থাকছে বহাল তবিয়তে।