মোঃ বজলুর রহমান
স্থানীয় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ। নাগরিক সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষকে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। অথচ সেই ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ারই যদি কোনো রাস্তা না থাকে, তবে দুর্ভোগ কতটা হতে পারে—তার বাস্তব চিত্র দেখা যায় মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ৭ নম্বর শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে।সরেজমিনে দেখা যায়, শিমুলিয়া ইউনিয়নের প্রধান সড়ক থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে পরিষদ ভবনটি অবস্থিত। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও ভবনটিতে প্রবেশের জন্য কোনো স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে চারপাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা বা ভেলা ছাড়া পরিষদে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আবার সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের মাঠ কাদায় পরিণত হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ এলেও ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশের এই জরুরি সড়ক নির্মাণের বিষয়টি বছরের পর বছর উপেক্ষিত থেকে গেছে। ফলে সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তেমনি প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস সালাম মোল্লা বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। নির্দিষ্ট রাস্তা না থাকায় মানুষ পাশের বিদ্যালয়ের পুরো মাঠ ব্যবহার করে চলাচল করছে। এতে পাকা সড়ক থেকে মাঠে নামতে গিয়ে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।”শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মিরাজ হোসেন জানান, “পাকা রাস্তা থেকে প্রায় ৮-৯ ফুট নিচে নেমে পরিষদে আসতে হয়। এতে চলাচলের পথও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি অনুদানের মালামাল পরিষদে পৌঁছাতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করতে হয়, ফলে ব্যয় বেড়ে যায়। এমনকি মোটরসাইকেল নিয়েও পরিষদে প্রবেশ করা অত্যন্ত কষ্টকর। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে সরকারি কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব জমি না থাকায় রাস্তা নির্মাণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।”এ বিষয়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিমুলিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক মো. দবিরুল ইসলাম বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে কোনো রাস্তা নেই—এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আমি উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছি। শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্রুত সড়ক নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। সবকিছু অনুকূলে থাকলে খুব শিগগিরই এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের জন্য একটি নতুন রাস্তা পাবেন বলে আশা করছি।”স্থানীয়দের দাবি, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে হলে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশের জন্য দ্রুত একটি স্থায়ী ও নিরাপদ সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।