শেফাইল উদ্দিন কক্সবাজার
নানা সীমাবদ্ধতা, তীব্র চিকিৎসক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও আবাসন সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার সাধারণ মানুষ। ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন শত শত রোগীর চাপ থাকলেও জনবল ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চলছে চরম বিড়ম্বনায়।সবচেয়ে বড় সংকট হলো চিকিৎসকের অভাব। বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৮ জন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ জন, যার মধ্যে একজন বিডিএস (দন্ত) চিকিৎসক। একজনকে জেলা সদর হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং অন্যরা বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন।এদিকে কেন্দ্রটিতে কোনো ডায়াগনস্টিক বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একটি মাত্র দুইতলা ভবনে বর্তমানে গাদাগাদি করে চলছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। একই ভবনে পরিচালিত হচ্ছে জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং নতুন অনুমোদন পাওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত অফিস কক্ষ, রোগীদের বসার স্থান এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল। নিয়ম অনুযায়ী ১০ জন আনসার সদস্য থাকার কথা থাকলেও আবাসন সংকটের কারণে তাদের নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মাত্র একজন নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে বিশাল হাসপাতাল চত্বর পাহারা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের প্রধান ফটকের তালাও একাধিকবার দুর্বৃত্তরা ভেঙে ফেলেছে। এছাড়া হাসপাতাল চত্বরে থাকা বড় দুটি ময়লার স্তূপ পরিবেশকে আরও অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে।উপজেলার ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোখসানা আফাজ জানান, সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধান ফটক স্থাপনসহ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে একটি ভবনে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা এবং আবাসন সংকটের কারণে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল বলেন, ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত তিনটি ভবন ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে আধুনিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হবে।কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে। নতুন ভবন চালু হলে চিকিৎসাসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক ভবন নির্মাণের পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসক সংকট দূর, ডায়াগনস্টিক সুবিধা চালু, নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করা হলে ঈদগাঁও উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবার দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।