মোঃ বজলুর রহমান’গাছ লাগাও, জীবন বাঁচাও’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের নানা কর্মসূচি চললেও মানিকগঞ্জে অনিয়ন্ত্রিত করাতকলের বিস্তারে প্রতিনিয়ত কাটা পড়ছে অসংখ্য গাছ। কার্যকর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপের অভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে করাতকলের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কমে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় গ্রামাঞ্চলে বড় বড় গাছের সমারোহ ছিল। এসব গাছে নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখির বিচরণ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু বর্তমানে নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে বড় গাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে পাখির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় তাদের উপস্থিতিও অনেক কমে এসেছে। এলাকাবাসীর ভাষায়, একসময় ভোরে পাখির কূজন শুনে ঘুম ভাঙলেও এখন সেই জায়গা দখল করেছে করাতকলের কর্কশ যান্ত্রিক শব্দ।মানিকগঞ্জ বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় নিবন্ধিত করাতকলের সংখ্যা ২৩৮টি। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রকৃতপক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে ৩৫০টিরও বেশি করাতকল পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক করাতকল দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন ছাড়া কিংবা প্রয়োজনীয় নীতিমালা অনুসরণ না করেই ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাছ কাটার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অথচ অবৈধ করাতকল নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এ প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “সামনে বৃক্ষরোপণ মেলাকে কেন্দ্র করে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, বিদ্যমান গাছও রক্ষা করতে হবে। এজন্য অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবশ্যই অনুরোধ জানানো হবে।”স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, লাইসেন্স যাচাই, নবায়ন নিশ্চিত করা এবং নির্বিচারে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে । না হলে ভবিষ্যতে জেলার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে।