নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরগুনার বেতাগীতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। এসময় অবৈধভাবে সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মানের অভিযোগে দুইজন মিস্ত্রীকে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সরকারি জমি দখলের ন্যাক্করজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বেতাগী উপজেলার পৌর শহরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুইটি খাস জমি জোবায়ের মিস্টান্ন ভান্ডারের বিপরীত পাশে এবং অন্যটি দিলীপ বনিকের দোকানের উত্তরপাশে খাস জমিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্থানীয় বিএনপি নেতা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নেছার উদ্দিন খানের নেতৃত্বে অবৈধভাবে ঘর তোলে। শুক্রবার সকাল ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ: সাদ্দাম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দখলের সত্যতা পেলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে সরকারি জমিতে নির্মিত অস্থায়ী ঘর, বেড়া ও অন্যান্য অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবৈধ ঘর নির্মানের কাজে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে মিস্ত্রী জামাল (৫২) ও রুবের (৪১) কে ২ হাজার টাকা করে দুইজনের নিকট থেকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন। উচ্ছেদের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় বেতাগী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক মো. শাহীন মল্লিক বলেন,’ বেতাগী উপজেলা স্বেচ্চাসেবক দলের আহ্বায়ক নেছার উদ্দিন খানের নেতৃত্বে গতকাল গভীর রাতে পৌর শহরের সরকারি জমিতে দুইটি অবৈধ স্থাপনা নির্মান করেন। এবিষয় উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম নূরুল ইসলাম পান্না বলেন,’ বিএনপি দলের কোন নেতাকর্মী দলীয় পদ ব্যবহার করে কোন অপকর্ম করলে দল তার দায়ভার নিবে না। এবিষয় অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার উদ্দিন খান বলেন,’ কে বা কারা রাতের আঁধারে সরকারি জমিতে ঘর উত্তোলন করেছে তা আমি জানি না, কিন্তু আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাকে অন্যায়ভাবে দ্বায়ী করা হয়েছে। বেতাগী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও পৌর মেয়র মো. শাহজাহান কবির বলেন,’ সরকারি জমি কেউ অবৈধভাবে দখলে নিতে পারবে না। বিএনপি দলের নেতাকর্মী হলে তাকে সাংগঠনিকভাবে দল থেকে বহিস্কার করতে হবে। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ: সাদ্দাম হোসেন বলেন,’ সরকারি জমি কেউ অবৈধভাবে ঘর তুলতে পারবে না। এমনকি পৌর শহরে ঘর তুলতে হলে পৌরসভার অনুমতি নিতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ: সাদ্দাম হোসেন আরো বলেন,’ গতকাল রাতে অবৈধভাবে ঘর উত্তোলনের সাথে সস্পৃক্ততা পাওয়ায় আমরা দুইজন মিস্ত্রীকে সাজা দিয়েছি।