নিজস্ব প্রতিবরদক,বরগুনা
বরগুনায় পরকীয়ার বিষয় জানতে পারায় প্রবাসী আফাং শিকদারকে (৪৫) পরিকল্পিতভাবে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও প্রতিবেশী হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী ও তার মাকে আটকের দাবিতে নিহতের মরদেহ নিয়ে ৩ ঘন্টা সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে নিহতের স্ত্রী রাবেয়া ও তার মাকে আটক করা হয়।শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাতলা গ্রামের চালিতলা স্ট্যান্ড এলাকায় বরগুনা-পুরাকাটা আঞ্চলিক সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. অলি উল্লাহর আশ্বাসে স্থানীয় বাসিন্দারা অবরোধ তুলে নেন।নিহত আফাং শিকদার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাতলা গ্রামের প্রয়াত খবির শিকদারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে ছিলেন আফাং শিকদার। এ সময় তিনি স্ত্রী রাবেয়া বেগমের কাছে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ টাকা পাঠান। পরে ওই অর্থের হিসাব নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একই সঙ্গে প্রতিবেশী হাসানের সঙ্গে রাবেয়ার পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি আফাং জানতে পারেন বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।নিহতের বোন নুরজাহান বেগম বলেন, ‘আমার ভাই দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে ছিলেন। সেখান থেকে স্ত্রীকে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। টাকা-পয়সা, জমিজমা ও পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। গত ১৫ জুলাই রাবেয়া ও হাসান মিলে আমার ভাইকে জোর করে কীটনাশক খাইয়ে হত্যা করেছেন। আমার নির্দোষ ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’স্বজনরা জানান, গত ১৫ জুলাই বিষপানের পর আফাং শিকদারকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে বরগুনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) তার মৃত্যু হয়। শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হলে বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।এ সময় উত্তেজিত এলাকাবাসী নিহতের স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর করেন বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের দাবি, এ সময় এলাকাবাসীর হাত থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে তার স্ত্রী রাবেয়া ও শাশুড়িকে আটক করা হয়।বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো ওয়ালি উল্লাহ বলেন, ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে আমিও আপনাদের সঙ্গে থাকব। আমি প্রশাসনকে বলেছি সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসীর হাত থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।