মোঃ আলাউদ্দিন, লক্ষ্মীপুরলক্ষ্মীপুর-
নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার চলমান প্রকল্পের আওতায় চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমিতে এখনো একাধিক দোকানপাট বহাল রয়েছে। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সরকারি জমির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তারা।সওজ সূত্রে জানা যায়, ফোর লেন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক প্রশস্তকরণ, রিজিড পেভমেন্ট, হার্ড শোল্ডার, আরসিসি বক্স কালভার্ট, বাস-বে, ফুটওভার ব্রিজ, ড্রেন, ডিভাইডার ও অন্যান্য সড়ক নিরাপত্তামূলক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্পভুক্ত কিছু স্থানে এখনো দোকানপাট থাকায় ভবিষ্যতে কাজ বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।সওজের ইজারা নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, মহাসড়ক সংস্কার, সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ বা উন্নয়নকাজের প্রয়োজনে ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ইজারা বাতিল করা যেতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ইজারা দেওয়া জায়গায় স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ ও ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যা ইজারার শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বাজার এলাকায় আরসিসি সড়ক নির্মাণের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ জায়গা পুরোপুরি উদ্ধার করা হয়নি। তাদের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের প্রভাবে কিছু অবৈধ স্থাপনা এখনো বহাল রয়েছে। এতে সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ভবিষ্যতে পথচারীদের জন্য ফুটপাত নির্মাণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সবার জন্য একই নীতি প্রয়োগ হওয়া উচিত। প্রয়োজনে নিয়ম অনুযায়ী সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে হবে।আরেকজন সচেতন নাগরিক বলেন, চার লেন সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি নিরাপদ ফুটপাত নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় যান চলাচলের সুবিধা বাড়লেও পথচারীদের দুর্ভোগ থেকেই যাবে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে তৎকালীন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার এলাকায় সওজের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। সে সময় বেশ কয়েকটি দোকানপাট অপসারণ করা হয়। তবে পরবর্তীতে কিছু স্থাপনা পুনরায় গড়ে ওঠে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে ইজারাগ্রহীতা চন্দ্রগঞ্জ নিউ মার্কেট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য মেলেনি।স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের স্বার্থে সরকারি জমির বর্তমান অবস্থা, ভূমি উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ইজারা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী সড়ক ও ফুটপাত নির্মাণ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।