নিজস্ব প্রতিবেদক,বরগুনা
বরগুনায় পরকীয়া জেরে মালয়েশিয়া প্রবাসী আফাং শিকদারকে (৪০) বিষ প্রয়োগে হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত হলো, স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩৮), মেয়ে আতিকা ও শাশুরী রাশেদা বেগম। এ মামলায় অপর আসামীরা হলো রাবেয়ার পরকীয়া প্রেমিক হাসান, রাবেয়ার মা বাবা। গ্রেপ্তারকৃতদের রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে বরগুনার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মনিরুজ্জানের আদালতে হাজির করা হলে তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনাটি জেলার সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নে চালিতাতলী গ্রামে।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আফাং শিকদারের বড় ভাই দুলাল শিকদার শনিবার রাতে বরগুনা থানায় পাঁচজনের নামে অভিযোগ করেন, তার ভাই ১৫ বছর বিদেশে থেকে তার স্ত্রীর নামে জমি রাখার জন্য টাকা পাঠিয়েছে। বরগুনা শহরে কিছু জমি রাখলেও গ্রামের প্রতিবেশি সম্পর্কে আমাদের আত্মীয় হাসানের সঙ্গে পরকীয়ায় আফাং শিকদারের বউ রাবেয়া গভীর ভাবে জড়িয়ে যায়। এ বিষয়টি রাবেয়ার মেয়ে আতিকা, শাশুরী ও শশুর জানতেন। আফং শিকদার দেশে এসে বউর নিকট টাকার হিসাব চায়। এ বিষয় নিয়ে ১৯ জুলাই রাতে বরগুনা পৌরসভার আমতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় আফাং শিকদারকে আসামীরা মারধর করে। মুমূর্ষু অবস্থায় আফং শিকদারকে জোরপূর্বক বিষপান করানো হয়। অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়। শনিবার বিকালে মরদেহ নিয়ে চালিতলী গ্রামের আসলে স্থানীয় জনতা ও আফং শিকদারের স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে বসা স্ত্রী রাবেয়া, মেয়ে আতিকা ও শাশুরী রাশেদাকে আটকে বরগুনা পুরাকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কে মরদেহ রেখে মানববন্ধন করেন। তিন ঘন্টা অবরোধে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো: অলি উল্লাহ ও পুলিশ এসে হত্যা মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়। বাদি দুলাল শিকদার বলেন, রবিবার পুলিশ হত্যা মামলা নিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে দুপুরে পাঠিয়েছেন। মুল হোতা হাসান পালিয়েছে। হাসান আমার ভাইর বউর সঙ্গে দীর্ঘ বছর পরকীয়া করে সব টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সব কিছু আফং শিকদারের মেয়ে শশুর ও শাশুরী জানতেন। ওই আসামীরা আমার ভাইকে মারধর করে মুমূর্ষু অবস্থায় পানির বদলে বিষ খাইয়ে হত্যা করে। বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তসহ অন্যান্য আলামতের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।