শেফাইল উদ্দিন, কক্সবাজারকক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ব্রিজকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অস্ত্র ও মাদকের নতুন ট্রানজিট পয়েন্ট—এমন অভিযোগে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকাজুড়ে। গভীর রাতের অন্ধকারে মোটরসাইকেল, লবণবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্রের চালান হাতবদল করা হচ্ছে। পাশাপাশি চৌফলদণ্ডী নদীপথ ব্যবহার করে সিমেন্ট ও তেল মিয়ানমারে (বার্মা) পাচারের অভিযোগও রয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাখাইনপাড়া, দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া, সাগরপাড়া, ঘোনাপাড়া, মাইজপাড়া, খামারপাড়া, নতুন মহাল ও ডেইলপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার কিছু ব্যক্তি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, বড় বড় ইয়াবার চালান প্রথমে চৌফলদণ্ডী ব্রিজ এলাকায় খালাস করা হয়। পরে সেগুলো ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রির ঘটনাও এখন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি তাদের।এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে সড়ক ও নৌপথ ব্যবহার করে মাদক ও অস্ত্রের চালান আনা-নেওয়া করছে। দীর্ঘদিন ধরে এই তৎপরতা চললেও জড়িতরা প্রতিবারই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় মাদকাসক্তি, চুরি, ছিনতাই, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।স্থানীয়দের মতে, চৌফলদণ্ডী এখন শুধু মাদকের ট্রানজিট নয়, বরং অপরাধ চক্রের একটি সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান উসাসিং বলেন, “আমার এলাকায় চোলাই মদের বিক্রি বেশি হয়। চোলাই মদ ও ইয়াবা বিক্রির বিষয়টি আমি আইনশৃঙ্খলা সভায় জানিয়েছি।”চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, “কিছুদিন আগে ইয়াবার একটি বড় চালান আটক হয়েছে। সাগরপাড়া এলাকায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের সমস্যা রয়েছে। তবে এলাকাকে মাদক ও অপরাধমুক্ত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজুর আলম বলেন, “চৌফলদণ্ডী এলাকায় মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি বাস্তব। আমি আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।”এদিকে এলাকাবাসী চৌফলদণ্ডী ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত টহল, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।