সাপ্তাহিক প্রকাশিত “বিশ্ব মিডিয়া”নূরে আলম (শাহারিয়ার) নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ জুলাই ২০২৬ ইং
এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ঋণখেলাপির জামিনদার ও দ্বৈত নাগরিকেদের নিষেধাজ্ঞা আসছে!স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নীতিগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক, প্রভাবমুক্ত এবং জনমুখী করার লক্ষ্য নিয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় ব্যাপক সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাবিত এই সংশোধনীগুলো চূড়ান্ত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, সরকারি বা আধাসরকারি লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি, দ্বৈত নাগরিক এবং ব্যাংক ঋণের জামিনদাররা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি সুযোগ হারাতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার পর এই সংক্রান্ত সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে।সংশোধনী ও নতুন বিধিনিষেধসমূহ ওআচরণবিধি সংশোধন ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া!নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলীয় ও ব্যক্তিগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে রাখতে এবং নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কঠোর বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা: সরকারের মাসিক বেতন আদেশ বা এমপিওভুক্ত (MPO-listed) শিক্ষকেরা আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রমের মান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব এড়াতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অতীতে বহু শিক্ষক স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ছিল।লাভজনক পদে ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের বর্জন: সরকারি, আধাসরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি এবং যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, এমন ব্যক্তিরাও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সাংবিধানিক ও আইনি সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এই বিধি কঠোর করা হচ্ছে।ব্যাংক ঋণের জামিনদারদের ওপর কড়াকড়ি: বর্তমান আইনি কাঠামোর আওতায় সাধারণত মূল ঋণগ্রহীতারা নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও জামিনদারদের ক্ষেত্রে কিছু আইনি ধোঁয়াশা বা শিথিলতা ছিল। কমিশন এখন ব্যাংক ঋণের মূল গ্রহীতার পাশাপাশি জামিনদারদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার সুনির্দিষ্ট ও কঠোর সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে আর্থিক খাতের শৃংখলা রক্ষা এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ রোধ করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যালোচনার পর এই সংস্কারের প্রস্তাবগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা এবং আচরণবিধি সংশোধনের বিষয়ে ইসির অভ্যন্তরীণ প্রস্তাব ও সুপারিশগুলো ইতিমধ্যে চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে।কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত এই সংশোধনীগুলো এখন খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং পরবর্তী সময়ে যথাযথ সংসদীয় প্রক্রিয়া অথবা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংশোধিত হওয়ার পরই কেবল এই নতুন বিধানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা হবে।রাজনৈতিক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পেশিশক্তি ও কালো টাকার প্রভাব অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা নিশ্চিত করতে এবং জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনতে এই ধরনের কঠোর আইনি সংস্কার অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।