শেফাইল উদ্দিন , কক্সবাজার
কক্সবাজারের ঈদগাঁও ট্রাফিক পুলিশ বক্সে কর্মরত সার্জেন্ট শান্তময় দাসের বিরুদ্ধে পরিবহন চালক, ব্যবসায়ী ও মাংস বিক্রেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা না দিলে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ঈদগাঁও ট্রাফিক পুলিশে যোগদানের পর থেকেই সার্জেন্ট শান্তময় দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিবহন ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক ও দৈনিক ভিত্তিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশা, টমটম, সিএনজি, ট্যাক্সি, ট্রলি, ইটভাটার ডাম্পার এমনকি মাংস ব্যবসায়ীরাও এ অভিযোগের বাইরে নন।বনফুল ডিলারের গাড়ি চালক আব্দুল কাইয়ুম অভিযোগ করে বলেন, তাদের পণ্যবাহী টমটম আটকে দিয়ে টাকা দাবি করা হয়। পরে নিয়মিত মাসিক টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।টমটম চালক আমিন জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার গাড়ি আটকে রাখা হয়। পরে এক হাজার টাকা দেওয়ার পর গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে জীবিকার তাগিদে তিনি নিয়মিত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।ফ্রেশ, ইস্পাহানি, মধুবন ও বনফুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিলার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, তাদের পণ্য পরিবহনের গাড়ি প্রায়ই আটকে দিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে মাসিক অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়।এছাড়া অবৈধ ডাম্পার, সিএনজি, ট্যাক্সি, ট্রলি এবং ঈদগাঁও বাসস্টেশন ও বাজার এলাকায় বিভিন্ন গাড়ি পার্কিং থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মাংস বিক্রেতাদের অভিযোগ, মাংস বহনকারী টমটম আটকিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া হয় এবং পরে নিয়মিত মাংস সরবরাহ করতেও বাধ্য করা হয়।এদিকে এলাকায় এমনও প্রচার রয়েছে যে, এসব অবৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে সার্জেন্ট শান্তময় দাস চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় বাড়ি নির্মাণের কাজ চলমান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সার্জেন্ট শান্তময় দাস বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ হতে পারে । অসুবিধা নেই।আরো বলেন, আমাদের এসপির সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। এ সব বিষয়ে আমাদের কোন সমস্যা হবে না।ঈদগাঁও ট্রাফিক পুলিশের টিআই মিদুল কুরী বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ থাকলে আপনারা সংবাদ প্রকাশ করেন। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই এবং আমি এ সবের সাথে জড়িত নেই।এদিকে ভুক্তভোগীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।