1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তার অপকর্ম নিয়ে স্ট্যাটাস, সাংবাদিক ইমাম খাইরকে মোবাইলে হত্যার হুমকি! নবীনগরের প্রাথমিক শিক্ষায় অচলাবস্থা, ১২৯ স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে প্রসবের সময় নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে স্বজনদের ক্ষোভ সাভারের বিরুলিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১০ মামলার আসামিসহ ২ শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেফতার। ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভা ঈদগাঁওয়ে ছিনতাইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, প্রধান দুই আসামি গ্রেফতার ঈদগাঁও ট্রাফিক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী-চালকরা সাটুরিয়ায় ২.৮৩ কোটি টাকার খাল পুনঃখনন নথিতে উন্নয়ন, মাঠে অনিয়ম ও ভুয়া বিলের অভিযোগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতায় আসছে কঠোর সংস্কার চৌফলদণ্ডী ব্রিজ: অস্ত্র ও মাদকের নতুন ট্রানজিট রুট

ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে প্রসবের সময় নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে স্বজনদের ক্ষোভ

  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

সিনিয়র রিপোর্টার আনিছুরজ্জামান খোকন

ঢাকার মুগদায় ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালের মুগদা শাখায় প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নবজাতকের স্বজনরা চিকিৎসায় গুরুতর অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যা সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।মৃত নবজাতকের মা তানিয়া আক্তার (২৮)। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ভোর ৫টার দিকে তার প্রসবব্যথা শুরু হয়। সকাল ৬টার দিকে স্বাভাবিক প্রসবের সময় শিশুটির মাথা বের হলেও শরীরের বাকি অংশ দীর্ঘ সময় প্রসবপথে আটকে থাকে। তাদের দাবি, প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে জরুরি চিকিৎসা বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মিসেস রিফাত রহমান সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছান। এরপর একাধিকবার কাটাছেঁড়া (এপিসিওটমি) করে প্রসব সম্পন্ন করা হয়। তবে ততক্ষণে নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে এবং পরে তার মৃত্যু হয়।পরিবারের অভিযোগ, শিশুটির মাথা দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পরও কেন দ্রুত সিজারিয়ান বা অন্য কোনো জরুরি চিকিৎসা-পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়নি, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তাদের দাবি, সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হলে নবজাতকের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতে পারত।অন্যদিকে হাসপাতালের চিকিৎসকের নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক এপিসিওটমি (Bilateral Episiotomy)-এর মাধ্যমে প্রসব সম্পন্ন করা হয়। নোটে বলা হয়েছে, মায়ের পর্যাপ্ত ‘বেয়ারিং ডাউন’ বা প্রসবের সময় প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগে অকার্যকারিতার কারণে শিশুর মাথা কিছু সময় আটকে ছিল। পরে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিশুটিকে প্রসব করানো হয় এবং প্রসবের পর নবজাতক সুস্থ ছিল বলে চিকিৎসা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।চিকিৎসকের নোটে আরও বলা হয়েছে, গর্ভফুল ও ঝিল্লি (Placenta and Membrane) CCT পদ্ধতিতে বের করা হয়, রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং এপিসিওটমির ক্ষত সেলাই করেন ডা. প্রীতন্ত রহমান। নথিতে ডা. লতার নামও উল্লেখ রয়েছে।এদিকে স্বজনদের অভিযোগ, প্রসবের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রামের বিষয়ে যথাযথ পরামর্শ দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, শিশুটির ওজন ছিল প্রায় ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম। ডিউটি কর্মকর্তা নওরিনের কাছে আল্ট্রাসনোগ্রামের বিষয়ে জানতে চাইলে, শুক্রবার হওয়ায় তা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছিল।ঘটনার পর স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়; চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।হাসপাতালের সিনিয়র অ্যাডমিন ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে হাসপাতালে কোনো অবহেলা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য না করে দুঃখ প্রকাশ করেন।হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন,”নরমাল ডেলিভারি হবে—এমন ধারণা থেকেই প্রসবের চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাসহ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণশিশুর মাথা দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পরও কেন দ্রুত সিজারিয়ান বা অন্য জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?ডা. রিফাত রহমানের হাসপাতালে দেরিতে পৌঁছানোর অভিযোগের সত্যতা কী?প্রসবের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম যথাযথভাবে করা হয়েছিল কি?চিকিৎসকের নোটে প্রসবের পর নবজাতককে সুস্থ বলা হলেও পরে তার মৃত্যু কীভাবে হলো?তদন্ত কমিটি কি চিকিৎসা নথি, ডিউটি রোস্টার, চিকিৎসক-নার্সদের উপস্থিতি এবং পুরো চিকিৎসা-প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করবে?ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরই স্পষ্ট হবে। তবে একটি নবজাতকের মৃত্যু এবং এক মায়ের সন্তান হারানোর বেদনা জনমনে গভীর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন এবং দায় প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...