শেফাইল উদ্দিন , কক্সবাজার
দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও সংঘর্ষের খবর যখন আলোচনায়, ঠিক সেই সময়ে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। একই দিনে পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেও পারস্পরিক আলোচনা, সময় সমন্বয় এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাজনৈতিক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঈদগাঁও উপজেলায় পৃথক গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে দুই দল।
ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিকেল ৩টায় ঈদগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল হোসেন এবং সদস্য সচিব বেলাল উদ্দিন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সময়মতো উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ঈদগাঁও উপজেলা জামায়াতে ইসলামী বিকেল ৪টায় উপজেলা কার্যালয় (ঈদগাঁও বাজারের দক্ষিণ পাশে) থেকে গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
একই দিনে দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি থাকায় সম্ভাব্য জনসমাগম ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিলেও, আগেভাগেই আলোচনার মাধ্যমে সেই শঙ্কা দূর করেন দুই দলের নেতারা।
ঈদগাঁও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল আজিম জানান, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ছলিম উল্লাহ জিহাদী উপজেলা বিএনপির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেই কর্মসূচির সময় নির্ধারণ করেছেন। ফলে কোনো ধরনের সংঘাত বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই।
ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দু শুকুর বলেন,
“আমাদের কর্মসূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তবে ঈদগাঁও বাজারের সীমিত পরিসর এবং জামায়াত নেতৃবৃন্দের অনুরোধ বিবেচনায় সম্ভাব্য জনস্রোত ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা আছরের আগেই কর্মসূচি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
দুই দলের এই সমঝোতাপূর্ণ উদ্যোগ স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
সাবেক ছাত্রশিবির নেতা লায়েক ইবনে ফাজেল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি কোনো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নয়। জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্মসূচি পালন করতেই পারে। সময় ও কর্মসূচিতে সমন্বয় থাকলে সংঘাতের পরিবর্তে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য আরও শক্তিশালী হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে বিভাজন ও উত্তেজনার নানা খবরের মধ্যে ঈদগাঁওয়ে বিএনপি ও জামায়াতের এই সমঝোতা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। মতপার্থক্য থাকলেও জনস্বার্থ, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচি পালনের এই সংস্কৃতি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।