1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সরকারি যাকাত ফান্ড দারিদ্র্য বিমোচনে অনন্য ভূমিকা রাখছে: জেলা প্রশাসক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া রোড: ‘মিয়ামি বাস’-এ চালক-সহযোগীদের নেতৃত্বে চাঞ্চল্যকর ছিনতাই ও যাত্রী নির্যাতন; চালক-হেলপার পলাতক! বেতাগী সৃষ্টি একাডেমি কর্তৃক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ মধুখালী বজারে গরু-খাসি মাংস বিক্রির নতুন শেড উদ্বোধন মধুখালী প্রেসক্লাবে স্বরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাঘাইছড়িতে ধসে যাওয়া সড়ক মেরামতে দিন-রাত কাজ: ৪৮ ঘণ্টায় চালুর আশ্বাস দিলেন ইঞ্জিনিয়ার প্রিয়দর্শী চাকমা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ: লক্ষ্মীপুরে ২০০ ডাস্টবিন স্থাপন কক্সবাজার শহর ফাঁড়ি পুলিশের অভিযানে অবৈধ অস্ত্রসহ ২ জন আটক ‘মাদক ছাড়ুন, নইলে উখিয়া ছাড়ুন’—উখিয়া থানার ওসির কঠোর হুঁশিয়ারি কক্সবাজার শহরের আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া রোড: ‘মিয়ামি বাস’-এ চালক-সহযোগীদের নেতৃত্বে চাঞ্চল্যকর ছিনতাই ও যাত্রী নির্যাতন; চালক-হেলপার পলাতক!

  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা ও ঢাকা:
নূরে আলম (শাহারিয়া) “বিশ্ব মিডিয়া”
১৮ আগষ্ট ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া রোড এলাকায় ‘মিয়ামি পরিবহন’ নামের একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসে এক নজিরবিহীন, লোমহর্ষক ও নৃশংস ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লার নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা বাসটিতে যাত্রীদের জিম্মি করে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেওয়া হয়েছে।

শুধু তাই নয়, প্রতিবাদী যাত্রীদের বাসের সিট ও ডেস্কে ফেলে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এই সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনায় বাসটির চালক, কন্ডাক্টর ও হেলপারের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা বাস ফেলে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় জনমনে গভীর রহস্য ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার আদ্যোপান্ত ও পটভূমি
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে আজ দুপুর ঠিক ২:০০ ঘটিকায় কুমিল্লার একটি ব্যস্ততম বাস কাউন্টার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় মিয়ামি পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-XXXX) ওই যাত্রীবাহী বাসটি। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও যাত্রীরা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে তাদের জন্য কী ধরনের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে। বাসটি কুমিল্লা অতিক্রম করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার আওতাধীন তুলনামূলক নির্জন ও কম জনবহুল গজারিয়া রোড সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পরিস্থিতি হুট করে বদলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, চালক ইচ্ছাকৃতভাবে বাসের গতি কমিয়ে দেন এবং মহাসড়কের এমন একটি স্থানে বাসটি থামানোর চেষ্টা করেন যা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এ সময় বাসের ভেতরে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া বা পূর্বে থেকেই আঁটঘাট বাঁধা চালকের সহযোগীরা (কন্ডাক্টর ও হেলপার) হঠাৎ বাসের দরজা ভেতর থেকে আটকে দেয়।

চলন্ত বাসে ত্রাসের রাজত্ব ও যাত্রীদের ওপর তাণ্ডব
বাসের গতি কমানোর কারণ জানতে চাইলে চালক ও তার সহযোগীরা উগ্র আচরণ শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। বাসের স্টাফরা এবং তাদের সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা অপরাধীরা যাত্রীদের ওপর চড়াও হয়।

  • অস্ত্রের মুখে জিম্মি: ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দেখিয়ে যাত্রীদের সিটের সাথে চেপে ধরে জিম্মি করা হয়।
  • ব্যাপক মারধর ও নির্যাতন: যারা প্রতিবাদ করার সাহস দেখিয়েছেন, তাদের ডেস্কে বা বাসের ফ্লোরে ফেলে উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাঠিপেটা করা হয়। নারী ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীরা জীবন ভিক্ষা চাইলেও হামলাকারীরা কোনো কর্ণপাত করেনি।
  • লুটপাট: যাত্রীদের হ্যান্ডব্যাগে থাকা নগদ টাকা, প্রবাসীদের কষ্টের জমানো অর্থ, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান স্মার্টফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পুরো আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই তাণ্ডবে বাসের ভেতরে এক ভীতিকর ও বিভীষিকাময় পরিবেশ তৈরি হয়।

চালক ও সহযোগীদের রহস্যজনক ভূমিকা ও পলায়ন
এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সন্দেহজনক ও অপরাধমূলক ভূমিকা। সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন—মহাসড়কের মতো ব্যস্ত ও উন্মুক্ত স্থানে যেখানে আইনশৃঙ্খলার উপস্থিতি থাকার কথা, সেখানে কীভাবে একটি চলন্ত বাসে দীর্ঘক্ষণ ধরে এমন নারকীয় কাণ্ড ঘটতে পারে?

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের জোরালো ধারণা, এই ছিনতাইয়ের মূল হোতা বা মাস্টারমাইন্ড ছিল বাসটির চালক ও তার সহযোগীরাই। অন্যথায়, মাঝপথে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হওয়ার পর তারা যাত্রীদের কোনো রক্ষা না করে সুযোগ বুঝে মহাসড়কের পাশে বাস থামিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে পারত না। অপরাধ সম্পন্ন হওয়ার পর চালক, কন্ডাক্টর ও হেলপার বাসটি লক করার বা চাবি নেওয়ারও সুযোগ না দিয়ে অত্যন্ত চতুরতার সাথে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।

স্থানীয়দের তৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ
বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের গোঙানি ও আর্তচিৎকার শুনতে পেয়ে আশপাশের স্থানীয় কিছু সাহসী মানুষ এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়েই চালক ও তার সহযোগীরা দ্রুত বাসটি থামিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গজারিয়া থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসটিকে জব্দ করে গজারিয়া থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান, “মিয়ামি বাসে সংঘটিত ছিনতাই ও মারধরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বাসটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চালক ও তার সহকর্মীরা এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক চৌকস দল ইতিমধ্যেই কুমিল্লার বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থান এবং ঢাকামুখী রুটগুলোতে অভিযান শুরু করেছে। বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের ডেকে পাঠানো হয়েছে এবং মালিকদের মাধ্যমে চালক ও হেলপারের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “মহাসড়কে এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পলাতক অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।”

মহাসড়কে যাত্রী নিরাপত্তার প্রশ্ন ও জনমনে আতঙ্ক
ঈদ কিংবা সাধারণ ছুটির দিন ছাড়াই সাধারণ একটি দিনে দিনের আলোয় দূরপাল্লার বাসে এমন লোমহর্ষক ছিনতাইয়ের ঘটনায় দেশের পুরো পরিবহন খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল ও সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দূরপাল্লার বাসগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সিসি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীরা এ ধরনের সুযোগ নিচ্ছে।

বিশেষ করে রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মহাসড়কে কড়া পুলিশি নজরদারি এবং বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা সঠিক তালিকা সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। দ্রুত এই অপরাধীচক্রকে গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করা না হলে পরিবহন খাতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...