ঢাকা, ২৭ আগস্ট ২০২৬সিনিয়র রিপোর্টার আনিছুরজ্জামান খোকন
দেশজুড়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট যেন নতুন করে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের অভিযোগ উঠছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।সকাল থেকে রাত দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সবখানেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।জ্বালানি খাতে চলমান সংকটের অন্যতম প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাহত হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপরও চাপ তৈরি হয়। পাশাপাশি কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি থাকলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়তে পারে।গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে অভিযোগ করছেন অনেক গ্রাহক। দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কৃষিকাজ, সেচ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। আগে যেখানে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি তুলনামূলকভাবে গ্রামাঞ্চলেই বেশি দেখা যেত, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি গ্যাসের স্বল্প চাপও নগরবাসীর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় দিনের উল্লেখযোগ্য সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় ঠিকমতো রান্না করা যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট সময়ে গ্যাস না থাকায় বাসিন্দাদের বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময় ও শ্রমও বেড়ে যাচ্ছে।নগরবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস দুই সংকট একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবন কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কর্মজীবী পরিবারগুলোতে রান্না, শিশুদের পড়াশোনা, অনলাইনভিত্তিক কাজ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।এদিকে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। নাগরিকদের দাবি, সাময়িকভাবে সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি এর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সংকটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে,এমন প্রত্যাশাই এখন ভুক্তভোগী মানুষের।