বিশেষ প্রতিনিধি:
খাল খননে ফিরেছে পানির প্রবাহ, কৃষকের চোখে জেগেছে নতুন স্বপ্ন। এক ফসলি জমি থেকে দুই-তিন ফসলের প্রত্যাশায় বুক বাঁধছেন বরগুনার হাজারো প্রান্তিক কৃষক। তবে কোথাও খাল খননের সুফল মিললেও, কোথাও ৬০ ফুট প্রশস্ত খালের মুখে মাত্র ৩ ফুটের জরাজীর্ণ কালভার্টে আটকে আছে পানি নিষ্কাশন। ফলে সম্ভাবনার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা।বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের উত্তর মনসাতলী গ্রামের চিত্র এমনই। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর—এলজিইডির ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের’ আওতায় বাইশতবক-লাকুরতলা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে অত্র ইউনিয়নে ধুপতি খাল, ধুপতি শাখা খাল, ভূতমারা খাল, মনসাতলি খাল, মাঝের খাল ও মাঝের শাখা খাল সহ ৬-টি খালে মোট ১০ দশমিক ৫০কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের সেচ সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে।তবে খাল খননে স্বস্তি ফিরলেও ৬০ ফুট প্রশস্ত খালের মুখে মাত্র ৩ ফুটের পুরোনো কালভার্ট পানি প্রবাহে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।কৃষকদের দাবি, জরাজীর্ণ কালভার্টটি ভেঙে সেখানে নতুন সুইচগেট নির্মাণ করা হলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা থেকে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি ধরে রেখে এক ফসলি জমিকে দুই থেকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা যাবে।বাইশতবক-লাকুরতলা উপ-প্রকল্পের খাল পুনঃখননের মাধ্যমে ফসলি জমিতে সেচের পানি সরবরাহের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নতুন রাস্তা। কৃষকদের আশা, এখন আর শুধু বর্ষা মৌসুমের এক ফসলের ওপর নির্ভর করতে হবে না, সেচ সুবিধা কাজে লাগিয়ে একাধিক ফসল উৎপাদন করে বাড়বে আয় ও কর্মসংস্থান।স্থানীয় কৃষক সাইফুল মিয়া বলেন, আগে খালগুলো পলি ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে ডোবা-নালায় পরিণত হয়েছিল। এখন খাল পুনঃখনন হওয়ায় পানি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং এলাকার মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।কৃষক সিরাজুল ইসলাম কনু বলেন, পানির অভাবে আগে বছরে একবার ধান চাষ করতেন তারা। খাল খননের ফলে এখন একাধিক ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হয়েছে। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এক ফসলি জমি দুই থেকে তিন ফসলি জমিতে রুপান্তিতো হবে। কৃষকদের প্রত্যাশা—যেখানে খাল খননে সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে, সেখানে পানি নিষ্কাশনের বাধাগুলোও দ্রুত দূর করা হবে। তাহলেই খাল খননের সুফল পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বরগুনার কৃষিতে আসতে পারে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন।