রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, ঝালকাঠি:
ঝালকাঠির পিপি এপিপি ও জিপি এজিপি থেকে বাদ পড়েছে বিএনপির ত্যাগী দুর্দিনের নেতারা। বিএনপি দুরধীনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ময়দানে ছিল দলের সুদিনে তারা নিরাশ । ফেসবুক খুললেই এ নিয়ে চলছে নানা জনের নানা রকম মত জল্পনা-কল্পনা। ঝালকাঠির সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এ বিষয় নিয়ে। এ নিয়ে মন খারাপ হতে দেখা গেছে দুর্দিনের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের। দুর্দিনের নেতাকর্মীদের এজন্য বিরাট চপেটাঘাত। আফসোস ও হতাশা ব্যক্ত করে ফেসবুকে লিখেছেন অনেকেই। এ বিষয়ে কয়েকজনের মতামত তুলে ধরা হলো:ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং জজকোর্টের এপিপি এডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন বলেন, “একজন সাদা মনের মানুষ জেলা বিএনপি’র সংগ্রামী আহবায়ক এ্যাড. মোঃ সৈয়দ হোসেন। দলের চরম দু:সময়ে যখন হেলমেট পরে বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলন সংগ্রামের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে হয়েছে তখন বয়সের কিংবা শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে এড়িয়ে যাননি কিন্তু দলের সু-সময়ে আপনাকে যেখান থেকে এড়িয়ে দেয়া হলো এটা কখনোই একটি মজলুম দলের নেতাকর্মীরা আশা করেনি । সু-সময়ের রাজনীতি বড়ই অদ্ভুত! আপনাকে মনে রাখবে দলের ত্যাগি নিবেদিত নেতাকর্মীরা। দু:সময়ে আমদের একজন সাহস যোগানোর প্রিয় অভিভাবক এ্যাড. সৈয়দ হোসেন ছিলেন। আপনার প্রতি শ্রদ্ধা, দোয়া এবং শুভকামনা নিরন্তর।অন্য আরেকটি পোষ্টে তিনি “মেঘের আড়ালে সুর্য হাসে। ইনশাআল্লাহ নতুন আলোয় আলোকিত হবেন। দোয়া, ভালোবাসা ও শুভ কামনা নিরন্তর প্রিয় বড় ভাই এ্যাড. নাসিমুল হাসান, সভাপতি ঝালকাঠি পৌর বিএনপি।”ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এস এম এজাজ হাসান ফেইসবুকে অনুভূতি প্রকাশ করে লিখেন, জেলা বিএনপির আহবায় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন এবং ঝালকাঠি পৌর বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান।দু’জনেই ঝালকাঠি জেলা বিএনপি পরিবারের নেতৃত্ব পর্যায়ের সম্মানিত সদস্য। তাদেরকে সম্মানিত করলে আমরা সম্মানিত বোধ করি। রাজনৈতিক অঙ্গনের বাহিরে সজ্জন মানুষ হিসেবে তাদের সুনাম রয়েছে। রাজনৈতিক পথ চলায় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সম্মান পেয়ে আপনারা মর্যাদাবান হবেন। ইনশাআল্লাহ।”স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম লিটন “ফেইসবুক ষ্ট্যাটাসে বলেন, এডভোকেট নাসিমুল হাসান কেন বাদ পড়ে? নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক কি করে ডিসি অফিসে নিয়োগ পায় ? কৃত্তিপাশা বিএনপির মঞ্চে কি করে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত দোসর ঠাই পেল ? প্রকাশ্যে তাকে নিয়ে খানাপিনা কেন? আসুন আমরা এই পথ থেকে বের হয়ে আসি । ঐক্য ঐক্য ঐক্যের বিকল্প নেই ।”স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার সাফায়েত হোসেন ফেইসবুক পোষ্টে বলেন ,”যারা দুর্দিনে মাঠে ছিল আন্দোলন সংগ্রাম করেছে তাদের মধ্যে একজন অন্যতম নাসিম ভাই তবে তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। যারা জীবনে একটি মিছিল একটা প্রোগ্রামে ছিল না তারাই এখন বড় বড় পোস্ট দখল করে। যারা আওয়ামী লীগের আমলে বিভিন্ন সুবিধা নিল তারাই আবার বিএনপির সুবিদা নিতে বড় বড় নেতা সাজেন। ঝালকাঠি র সচেতন মানুষ ভালোভাবেই জানে আন্দোলন সংগ্রামে কারা কারা আন্দোলন করছে। কারা করে নাই।”ঝালকাঠি জজ কোর্টের সাবেক এবিপি ও বিএনপি নেতা এডভোকেট মোঃ আল আমিন হাওলাদার বলেন, “নতুন চমক ঝালকাঠি জজ কোর্টে পিপি,এপিপি জিপি,এজিপি পদে দোসরদের ছড়াছড়ি!মাত্র কয়েকজন ব্যতীত।”এদিকে ঝালকাঠি জজকোর্টের এডভোকেট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি বলেন, “সৈয়দ হোসেন এবং এডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব থাকাকালিন ভালো ভালো বিএনপি নেতাকর্মীদের দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। উনারা পকেট কমিটি গঠন করেছিলেন, তাদের আমলে দলের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চার অভাবে ছিলো। এরফলে তারা আজ বঞ্চিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হবে। “