মোঃ আলাউদ্দিন, লক্ষ্মীপুর:
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ২০২৬–২০২৮ দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সমীর কর্মকার ১০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত ইশতেহারে লক্ষ্মীপুর জেলার জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের স্বার্থ, অধিকার, মর্যাদা ও ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলা বাজুসকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ, আধুনিক ও ব্যবসায়ীবান্ধব সংগঠনে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।‘বাজুস নিয়ে ভাবনা, ব্যবসায়ীদের প্রতি কমিটমেন্ট’—এই প্রত্যয়ে ঘোষিত ইশতেহারে সমীর কর্মকার বলেন, বাজুস শুধু একটি ব্যবসায়ী সংগঠন নয়; এটি দেশের স্বর্ণ ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও কল্যাণের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। নির্বাচিত হলে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার সব জুয়েলার্স ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।ইশতেহারের প্রথম দফায় আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহযোগিতায় জেলা শহরে বাজুস লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার নামে নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।দ্বিতীয় দফায় এখনো বাজুসের কেন্দ্রীয় সদস্যপদ গ্রহণ না করা জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভ্যাট, ট্যাক্স ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।তৃতীয় দফায় মহাজনী ও বন্ধকী ব্যবসার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা এবং কেন্দ্রীয় বাজুসের সহযোগিতায় একটি বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।চতুর্থ দফায় স্বর্ণ ও জুয়েলারি ব্যবসার লাইসেন্স, অনুমোদন, নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স গ্রহণের ক্ষেত্রে হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহনীয় ব্যয়ে সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।পঞ্চম দফায় স্বর্ণালংকার ক্রয়-বিক্রয়ের পর উদ্ভূত বিভিন্ন বিরোধ ও জটিলতা নিরসনে কার্যকর সমাধান কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের অধিকার ও স্বার্থ বিবেচনায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।ষষ্ঠ দফায় জেলা মহাজনী কমিটিকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর জেলার স্বর্ণ কারিগর ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে একটি ‘স্বর্ণ শ্রমিক ফেডারেশন’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মালিক, কারিগর ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্ক ও স্বার্থ রক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।সপ্তম দফায় লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গোল্ড টেস্টিং ও হলমার্কিং ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কারিগর, মহাজন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এ সেবা সহজলভ্য করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।অষ্টম দফায় জেলা বাজুসের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। নিয়মিত মাসিক চাঁদা সংগ্রহ, আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ এবং ত্রৈমাসিক সভায় তা উপস্থাপনের পাশাপাশি অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সাধারণ সদস্যদের সংগঠনের আর্থিক ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।নবম দফায় বাজুসের গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনী বিধিমালা অনুসরণ করে ২০২৮–২০৩০ মেয়াদের নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজন এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।দশম ও শেষ দফায় বাজুসের সুনাম, ঐতিহ্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে ব্যবসার মানোন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ এবং একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও দক্ষ সংগঠন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সমীর কর্মকার।ইশতেহারে তার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—‘ঐক্যবদ্ধ ব্যবসায়ী সমাজ, স্বচ্ছ সংগঠন, নিরাপদ ব্যবসা, উন্নত সেবা, শক্তিশালী বাজুস।’সমীর কর্মকার বলেন, একজন চেয়ারম্যান একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারেন না। পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সব ব্যবসায়ীর ঐক্য, সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুসকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক, স্বচ্ছ ও ব্যবসায়ীবান্ধব সংগঠনে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।ইশতেহারের মাধ্যমে তিনি জেলার জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের দোয়া, আশীর্বাদ, ভালোবাসা, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করেন।