স্টাফ রিপোটার:
ওয়ালিউল্লাহ্ টিটু।সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক “২০টি ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন” প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ ও সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন না হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা, সচিবের আকস্মিক বদলী এবং প্রকল্প পরিচালকের গ্রেড নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে অসন্তোষ এবং নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রকল্পটির মেয়াদ গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে শেষ হয়েছে। কিন্তু সংশোধিত ডিপিপি এখনো পরিকল্পনা কমিশন থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।সমাপ্ত প্রকল্পে বদলীকৃত পিডির দায়িত্ব পালন*অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মিজ শবনম মোস্তারি বদলী হয়ে যাওয়ার পরও ডে-কেয়ার কেন্দ্রসমূহের জনবল বদলী সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করছেন। প্রকল্প বন্ধ থাকা অবস্থায় এবং সংশোধিত প্রকল্পের অনুমোদন না থাকায় কিভাবে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রকল্প ও ডে-কেয়ার সংশ্লিষ্টরা।*সচিবের আকস্মিক বদলী*এদিকে মন্ত্রণালয়ের সচিবের আকস্মিক বদলী নিয়েও আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদায়ী সচিব মেধা, দক্ষতা ও সততার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তার স্থলে এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যিনি ৪ মাসের মধ্যে পিআরএল-এ যাবেন। স্বল্প সময়ের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসহ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিবর্তন কেন আনা হলো তা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।*পিডি পদের গ্রেড ও রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন*সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্প পরিচালকের পদ নিয়ে। প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে ৫ম গ্রেডের একজন পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের কথা থাকলেও বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পিডির দায়িত্ব পালন করছেন। সূত্র জানায়, তিনি উপসচিব থাকাকালীন সময় থেকে, পরে যুগ্মসচিব হিসেবেও এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন। এখন ২য় গ্রেডের অতিরিক্ত সচিব হয়েও তিনি একই দায়িত্বে রয়েছেন। বিধি মোতাবেক ৫ম গ্রেডের পদের বিপরীতে ২য় গ্রেডের কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব কতটা যৌক্তিক তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এছাড়া শবনম মোস্তারির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেল-কে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন এবং সেই কবিতা তার প্রকল্পের বিভিন্ন প্রকাশনায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ৫ আগস্টের পর একই কবিতা এডিট করে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ‘মুগ্ধ’ ও ‘আবু সাঈদ’ এর নাম বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।কবিতা এডিটের অভিযোগ* > শবনম মোস্তারির লেখা “শিশুর মানসিক বিকাশের দাবি” নামের একটি কবিতার দুইটি ভিন্ন ভার্সনের ছবি পাওয়া গেছে। প্রথম ভার্সনে কবিতাটি ১৫ আগস্ট ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা। সেখানে “আগস্টের এক ভয়াল কালো রাত্রি” এবং “সাহস জোগাবে ক্ষুদে বঙ্গবন্ধু হয়ে” লাইন রয়েছে। > পরের ভার্সনে একই কবিতার শব্দ ও কাঠামো ঠিক রেখে “আগস্ট” এর জায়গায় “জুলাই বিপ্লব”, “বঙ্গবন্ধু” এর জায়গায় “আবু সাঈদ ও মুগ্ধ” এবং “তোমার” এর জায়গায় “আহাদ ও রিয়া” বসানো হয়েছে। দুইটি প্রকাশনাতেই স্বাক্ষর রয়েছে প্রকল্প পরিচালক শবনম মোস্তারির।সূত্রগুলো আরও জানায়, তার বাড়ি বগুড়ায়। তার বাবা আওয়ামী লীগের আমলে দীর্ঘদিন নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান ছিলেন বলে জানা গেছে। বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিষয়ে তদন্ত করলে একাধিক প্রমাণ পাওয়া যাবে। *জনবলের অসন্তোষ*প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের জনবলের একটি অংশ বর্তমান পিডির আচরণ ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, সমন্বয়হীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এত অভিযোগ থাকার পরও কেন তাকে দায়িত্বে রাখা হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারির বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন এবং বিধি মোতাবেক একজন পূর্ণকালীন পিডি নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।