সালাউদ্দিন রানা।প্রতিনিধিকোম্পানীগঞ্জ,সিলেট ।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ থেকে ছনবাড়ী পর্যন্ত গ্রামীণ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সড়ক রক্ষা, জনদুর্ভোগ কমানো এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভোলাগঞ্জ পয়েন্টে স্থাপিত বার গেট খুলে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তাঁরা। একই দাবিতে এর আগেও একাধিকবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলাগঞ্জ থেকে শাহ আরেফিন টিলা পর্যন্ত সড়কটিতে রয়েছে পাঁচটি বড় সেতু ও কালভার্ট। এর মধ্যে বাবুলনগর এলাকার পর একটি ছোট কালভার্ট বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত ভারী যানবাহন চলাচল করলে কালভার্টটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকির পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতেও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।এলাকাবাসী জানান, সড়কটির একাংশ পাকা হলেও বড় একটি অংশ এখনো কাঁচা। রাতভর ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি তীব্র শব্দদূষণ, ধুলাবালি ও বায়ুদূষণে আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।বর্ষা মৌসুমে এ সড়কের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়, পুরো রাস্তা কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে পড়ে। তখন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়। এ পথে রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজ। ফলে প্রতিদিন যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কাদা-পানি মাড়িয়ে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয় তাদের।পাড়ুয়া আনোয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ইকবাল হুসেন বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আমাদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ভারী গাড়ি চলাচল করলে রাস্তা আরও নষ্ট হয়। এতে আমাদের পড়াশোনা ও যাতায়াতে অনেক সমস্যা হয়। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হোক।”স্থানীয় যুবদল নেতা সোনা মিয়া বলেন, “আমরা ভোলাগঞ্জ পয়েন্টে স্থাপিত বার গেট খুলে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি। গত বছর ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে আমাদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। রাস্তার অবস্থা নষ্ট হয়ে যায়, চলাচলে চরম কষ্ট হয়। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা আমরা চাই না। জনস্বার্থে বার গেট বন্ধ রেখে ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”ছনবাড়ী গ্রামের অ্যাডভোকেট আলম বলেন, “আমরা গত বছরও এ সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার ছাতক প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। কয়েক দিন ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে আবার চালু হয়ে যায়। এভাবে সাময়িক ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। স্থায়ীভাবে ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ছনবাড়ী থেকে ইছামতী সড়ক একসময় পাকা থাকলেও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে বর্তমানে সেই সড়কের পাকা অংশেরও অনেক জায়গায় অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”১ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজিত দাস বলেন, “আমরা বার গেট খুলে না দেওয়ার দাবিতে আবেদন করেছি। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও রোগী যাতায়াত করেন। ভারী যানবাহন চলাচল করলে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। জনস্বার্থ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বার গেট বন্ধ রাখার বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।”এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ করলেই হবে না, সড়কের ধারণক্ষমতা ও ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্টের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভোলাগঞ্জ পয়েন্টের বার গেট খুলে দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের সুযোগ তৈরি হলে সড়কটির অবশিষ্ট অংশও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।তাই জনদুর্ভোগ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, রোগীদের চলাচল এবং সড়ক ও কালভার্টের স্থায়িত্ব বিবেচনায় ভোলাগঞ্জ পয়েন্টের বার গেট বন্ধ রাখার পাশাপাশি ওই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।