সালাউদ্দীন শাহিন, বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার উগলছড়ি ব্রিজ থেকে সিজক পর্যন্ত খালটি দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। খালের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৩০০ একর আমন ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শতাধিক কৃষক ও জমির মালিক। অবিলম্বে খালটি খননের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।সরেজমিনে দেখা যায়, পলি জমা ও সংস্কারের অভাবে খালটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় খালটি তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই উজানের পানি নেমে ফসলি জমি ডুবিয়ে দিচ্ছে। শুধু ফসলি জমি নয়, এই জলাবদ্ধতার কারণে জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশও আজ হুমকির মুখে। খালে দেশীয় মাছের বিচরণ বন্ধ হয়ে গেছে, নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা।এ বিষয়ে কৃষক আবু জাহেদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই জলাবদ্ধতার কষ্ট ভোগ করছি। এ বছর ৩০০ একর জমি করা অনিশ্চিত কারণ এখনো পানির নিচে জমি কিভাবে চাষ হবে? ধার-দেনা করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলাই, কিন্তু খাল দিয়ে পানি না নামায় সব জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে। খালটা যদি সরকার পরিবেশ সম্মতভাবে খনন করে দেয়, তাহলে শত শত কৃষক পরিবার বেঁচে যাবে।এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল হক বলেন, এ বছর ৩০০ একর জমি করা অনিশ্চিত কারণ এখনো পানির নিচে জমি কিভাবে চাষ হবে? এই খালের উপর ৪-৫টি গ্রামের কৃষকরা নির্ভরশীল। অবিলম্বে খালটি খনন করা না হলে আগামী মৌসুমেও কোনো চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ দিয়ে খালটি খননের দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, এই খালের উপর ৪-৫টি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মানুষ ও প্রকৃতি নির্ভরশীল। খালটি খনন করা হলে শুধু ফসলই রক্ষা পাবে না, বর্ষায় জলাবদ্ধতা দূর হবে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বৃদ্ধি পাবে এবং প্রাকৃতিক মাছের অভয়ারণ্য ফিরে আসবে।এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, উগলছড়ি থেকে সিজক পর্যন্ত এই খালটি কৃষকদের বাঁচা-মরার খাল। খাল ভরাট হওয়ায় ৩০০ একর জমির চাষাবাদ আজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এটি শুধু কৃষকের ক্ষতি নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপরও আঘাত। একটি খাল বাঁচলে একটি গ্রাম বাঁচে, একটি ফসল বাঁচে। আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা এই বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সাথে দেখছি। আমি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করব, পরিবেশবান্ধব উপায়ে অতি দ্রুত খালটি খনন করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দিয়ে কৃষকদের বাঁচান।