লিটন কুমার ঢালী, বেতাগী (বরগুনা):
আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন COP31-এ অংশ নিতে যাচ্ছেন বরগুনার বেতাগী উপজেলার কৃতিসন্তান তরুণ জলবায়ুকর্মী খাইরুল ইসলাম মুন্না। আগামী নভেম্বরে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জলবায়ু সংকট, জীবনসংগ্রাম, ঝুঁকি ও ন্যায্য দাবিগুলো বিশ্বনেতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর এই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণকে বেতাগীসহ বরগুনার তরুণ সমাজের জন্য একটি গর্ব ও অনুপ্রেরণার বিষয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন খাইরুল ইসলাম মুন্না। ২০০৭ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডরের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করার গভীর অনুপ্রেরণা জোগায়। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং জীবন-জীবিকার অনিশ্চয়তা তাঁকে জলবায়ু সংকটের বিষয়ে সচেতন করে তোলে। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশ সুরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ শুরু করেন।এরই ধারাবাহিকতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘গ্রিন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’ (GPYDS)। সংগঠনটির মাধ্যমে বর্তমানে এক হাজারেরও বেশি তরুণ স্বেচ্ছাসেবক পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কাজ করছেন। তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংগঠনটি ভূমিকা রাখছে।খাইরুল ইসলাম মুন্না জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যুব নেতৃত্ব এবং জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি LCOY Bangladesh-এর যোগাযোগ ও গণমাধ্যমবিষয়ক নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’-এর বরিশাল বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ইয়ুথ অ্যাডভাইজরি প্যানেলে যুব প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন তিনি। এসব দায়িত্বের মধ্য দিয়ে তরুণদের মতামত, অধিকার, নেতৃত্ব এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছেন।আসন্ন COP31 সম্মেলনকে নিজের দীর্ঘদিনের কাজ ও অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন মুন্না। বিশেষ করে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যে কতটা গভীর, তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চান তিনি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, সেসব বাস্তবতা আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী হয়েও বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তাই জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর সহায়তা এবং জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় উপকূলের সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।বেতাগীর মাটিতে বেড়ে ওঠা একজন তরুণের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণ শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করা তরুণদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।তুরস্কে অনুষ্ঠেয় COP31 সম্মেলনে অংশ নিয়ে খাইরুল ইসলাম মুন্না বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের সংকট, অধিকার ও ন্যায্য দাবিগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে চান। তাঁর প্রত্যাশা, বিশ্বনেতাদের আলোচনায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব সমস্যা গুরুত্ব পাবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।