। চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: মোঃ মাসুদ ইসলাম।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) প্রধান ফটকের সামনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হলেও তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়কে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পরপরই এর উচ্চতা ও পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে মাত্র একদিনের মাথায় সেগুলো অপসারণ করা হয়।এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, যানবাহন চালক ও সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ না করায় শেষ পর্যন্ত স্পিড ব্রেকার নির্মাণ ও অপসারণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও অতিরিক্ত উঁচু, আবার কোথাও অপ্রয়োজনীয়ভাবে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরবর্তীতে সমালোচনা ও জনমতের প্রতিক্রিয়ায় একদিনের মধ্যেই সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।প্রশ্ন উঠেছে, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যাপ্ত পরিকল্পনা, কারিগরি মূল্যায়ন ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া কেন এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো? একবার নির্মাণ এবং পরদিনই অপসারণ—এ ধরনের সিদ্ধান্ত কি সড়ক নিরাপত্তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ?সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করলেই সড়ক নিরাপদ হয় না। দুর্ঘটনা কমাতে প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্ধারিত স্থানে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, স্পষ্ট সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং চালক ও পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি।বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ, প্রশাসন ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।তাদের দাবি, আমরা চাই না বেপরোয়া গতি কিংবা চালকদের অসতর্কতার কারণে আর কোনো শিক্ষার্থী বা নিরীহ মানুষের প্রাণ ঝরে যাক। একই সঙ্গে অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারের কারণে কোনো যানবাহন, চালক কিংবা যাত্রীও দুর্ভোগের শিকার হোক।জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ছেলেখেলা নয়। একবার নির্মাণ, আবার একদিন পর অপসারণ—এটি কি পরিকল্পনার অভাব, নাকি দায়িত্বশীলতার ঘাটতি? এমন প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, দুর্ঘটনা কমুক, বেঁচে থাকুক মানুষের মূল্যবান জীবন—এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।