রিপোর্টারঃ- আমিনুর ইসলাম,
ঢাকার ধামরাই উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়নে ৫ই আগস্ট পরবর্তী পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের সাবেক কিছু ‘দালাল’ ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠী রাতারাতি বিএনপির পরিচয় ধারণ করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে। এই চক্রটি নিরীহ মানুষকে ‘আওয়ামী লীগ’ তকমা দিয়ে মামলার ভয় দেখাচ্ছে এবং নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থ উদ্ধারে লিপ্ত হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, “এই সুবিধাবাদী চক্রটি কেবল মাঠেই নয়, ডিজিটাল মাধ্যমেও সক্রিয়। তারা ফেসবুকে বিভিন্ন ‘ফেক আইডি’ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এসব ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে সামাজিকভাবে মানুষকে হেয় করা হচ্ছে এবং পরে সেই চাপের মুখে ফেলে তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের বা হাতিয়ে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।”
সুয়াপুর ইউনিয়নে চলা এই অস্থিরতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিমুল আহমেদ। তিনি জানান, “দলের দুঃসময়ে যাদের হদিস ছিল না, এমন কিছু আওয়ামী লীগের দালাল ও হাইব্রিড লোক এখন বিএনপির বড় নেতা সেজে অপকর্ম করছে। এরা মূলত নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল করতে বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করছে। এদের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং দলটি ঘৃণিত হচ্ছে।”
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদ হোসেন এবং শিমুল আহমেদসহ ত্যাগী নেতারা এই ‘অসৎ’ চক্রটির বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান পোষণ করেছেন এবং দলের হাই কমান্ডকে বিষয়টি জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
সূয়াপুরের সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীক মহল মনে করছেন, এই চক্রটিকে এখনই না থামালে এলাকার দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা এই ‘মামলাবাজ’ ও ‘ফেসবুক অপপ্রচারকারী’ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা বিএনপি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।