বিশেষ সংবাদদাতা:
সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এখনো পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী না পাওয়ায় প্রশাসনিক সংকট কাটেনি। সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-২) মো. বেলাল হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হলেও তাকে স্থায়ী বা পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বেলাল হোসেন বর্তমান পদে বহাল থেকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ গত এক বছর ধরে যে চলতি ও রুটিন দায়িত্বের ধারাবাহিকতা চলছে, সেখান থেকে এলজিইডি এখনো বের হতে পারেনি।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত প্রায় এক বছর ধরে এলজিইডির শীর্ষ পদে পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বড় অঙ্কের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, নীতিগত সিদ্ধান্ত, জনবল ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তিতে নিয়মিত বিলম্ব হচ্ছে।এলজিইডি সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রধান বাস্তবায়নকারী সংস্থা।
গ্রাম ও শহরের সড়ক, সেতু-কালভার্ট, হাটবাজার উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামোসহ হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত থাকে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয় বা ফাইল উচ্চপর্যায়ে আটকে থাকে। পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকলে এসব সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতো।নতুন করে বেলাল হোসেনকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হলেও এতে নেতৃত্ব সংকটের স্থায়ী সমাধান হলো না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের মতে, সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে এলজিইডির মতো একটি সংস্থায় দ্রুত পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।