জেলা প্রতিনিধি,
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নে প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পরও থামছে না অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য। উল্টো আরও জাঁকজমকভাবে পুনর্গঠন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ভাটামালিকরা।
কয়েকদিন আগে প্রশাসনিক অভিযানে আটিগ্রাম ইউনিয়নের ৪টি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে হাজী ব্রিকস নামের একটি ইটভাটার জিকজ্যাক চুলা সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়। অপর ৩টি ভাটাকে সতর্কবার্তাসহ মোট ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
কিন্তু অভিযানের পরপরই প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে এসব ভাটার মালিকরা নতুন করে ভাটা নির্মাণ ও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজী ব্রিকস নামে পরিচিত ইটভাটাটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাত্র ৪০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত। পরিবেশ আইন ও ইটভাটা স্থাপন বিধিমালা অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ অবৈধ হওয়ায় আগের অভিযানে ভাটাটি ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে সেখানে আবার নতুন চুলা বসিয়ে উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে।
হাজী ব্রিকসের মালিক আবু বক্কর এ বিষয়ে বলেন,“আমি নতুন চুলা তৈরি করেছি, তবে ভাটাটি আমি বিক্রি করে দেব।”অবৈধ ভাটা কেনাবেচা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান এবং কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ জেলার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,“অভিযানে অবৈধ ঘোষিত কোনো ভাটাই বৈধ হয়নি। আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। এরপরও যদি কেউ পূর্ণনির্মাণ বা উৎপাদন চালু করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তৎপরতার পরও কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ ভাটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবারো দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক ।