বিশেষ প্রতিবেদক,বরগুনা
বরগুনার বেতাগী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা, দুর্নীতিলব্ধ অর্থ লেনদেন ও নারী শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আদালতের একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুকূলে দেওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি এবং তা না পেয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেতাগী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ওই ভুক্তভোগী।
জানা যায়, বরগুনার বেতাগীর বেতমোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বাদল লিখিত অভিযোগে জানান, বেতাগী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ওই শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুর রহমানের ওপর। তদন্ত চলাকালীন জালাল উদ্দিন মাস্টারের মাধ্যমে শিক্ষা অফিসার মামলার আসামী বেতাগীর উত্তর বেতমোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা আকতার এবং বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বাদলের নিকট ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। তারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি বাদীর পক্ষ নিয়ে একটি ‘মনগড়া ও ভিত্তিহীন’ তদন্ত প্রতিবেদন ওই আদালতে দাখিল করেন।
লিখিত অভিযোগে আরও জানানো হয়, মামলার অসংগতি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় নথিপত্রে বাদী মোসাঃ তাছলিমা দাবি করেন, ২০১৩ সালে তার ছেলেকে প্রাইমারী স্কুলে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য তিনি ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। তবে ২০১৩ সালে ওই বিদ্যালয়ে কোনো সহায়ক নিয়োগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছিল না। তৎকালীন অভিযুক্ত আফরোজা আকতার প্রধান শিক্ষক ছিলেন একজন সাধারণ সহকারী শিক্ষক। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন অন্য একজন।
বর্তমান সভাপতি মিজানুর রহমান বাদল বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই মামলা সাজানো হয়েছে। আমি বিগত ইউপি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। আমার সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ করতে এবং আমার স্ত্রীর চাকরি নিয়ে জটিলতা তৈরি করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে।
বাদল অভিযোগ করেন, জালাল মাস্টারের মাধ্যমে শিক্ষা অফিসারকে ‘খাম’ বা কমিশন না দিলে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দের চেক দেওয়া হচ্ছে না। অনেক প্রধান শিক্ষক মান-সম্মানের ভয়ে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
নারী শিক্ষকদের প্রতি আপত্তিকর আচরণ শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বাদল। তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি নারী শিক্ষকদের “ভাসুর” বা “বেয়াই” সম্বোধন করে অশোভন আচরণ করেন। এমনকি অনেক নারী শিক্ষককে রাতের বেলা ডরমিটরিতে তার রুমে আসার জন্য মুঠোফোনে প্রস্তাব দেন বলেও গুরুতর অভিযোগ করেন তিনি।
সাক্ষীর জবানবন্দি ও ভুক্তভোগীদের দাবি, মামলার অন্যতম সাক্ষী বাদল মোল্লা সম্প্রতি আদালতে এফিডেভিট দিয়ে জানিয়েছেন। শিক্ষা অফিসার ও জালাল মাস্টার তাকে ভুল বুঝিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করিয়েছিলেন। আসলে তিনি ঘটনার কিছুই জানেন না।
বেতাগী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ওয়াহিদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আসলে মিথ্যা ভুয়া ভিত্তিহীন। অভিযোগকারী পিয়নের চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে। আদালত থেকে আমাকে তদন্ত করে মামলার প্রতিবেদন দিতে বলেছে।
আমি বিষয়টি তদন্ত করলে তাদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্যতা পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, যারা উন্নয়নমূলক কাজ করেনি তাদের বিল দেইনি। নারী শিক্ষকদের আমি ডরমিটরিতে আসতে বলেছি। যদি কোনো নারী শিক্ষক বলতে পারে আমি চাকরী ছেড়ে চলে যাব। আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।