অনলাইন ডেস্ক:-
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঘটনাটি কেবল একটি ক্যামেরা উদ্ধারের ঘটনা নয় এটি চিকিৎসা পেশার নৈতিক মেরুদণ্ডে এক অপূরণীয় আঘাত। একজন হবু ডাক্তার, যার কাজ মানুষের জীবন বাঁচানো এবং গোপনীয়তা রক্ষা করা, তিনি যখন নিজের সহকর্মী ও শিক্ষকদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন, তখন বুঝতে হবে অপরাধটি কেবল বিকৃত কামনার নয়, এটি একটি পরিকল্পিত সাইকোপ্যাথিক অপরাধ।
মানুষ সবখানে পর্দা বজায় রাখলেও ডাক্তারের সামনে নিজেকে সঁপে দেয় এক অটল বিশ্বাসে। ওটি (OT) বা চেঞ্জিং রুম হলো হাসপাতালের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা। সেখানে জীবনের লড়াই চলে। সেই পবিত্র স্থানে যখন কোনো ডাক্তার ক্যামেরা সেট করে, তখন সে শুধু আইন ভাঙছে না, সে লক্ষ কোটি মানুষের সেই আদিম বিশ্বাসকে জবাই করছে। এই ক্ষতের দাগ মুছতে কয়েক দশক সময় লাগে।
এমন পরিস্থিতিতে অপরাধীর পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত আমাদের সমাজে পরিবারগুলো অপরাধ ঢাকতে বা ছেলের ক্যারিয়ার বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে পরিবারের উচিত সবার আগে ভিক্টিমদের পাশে দাঁড়ানো এবং ছেলের এই জঘন্য কাজের দায়ভার না নিয়ে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা।
অনেক সময় পরিবার একে মানসিক রোগ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। মনে রাখা দরকার, এটি কোনো সাধারণ রোগ নয়, এটি অপরাধপ্রবণতা। পরিবার যদি তাকে নৈতিক সমর্থন দেয়, তবে তারা প্রকারান্তরে এই বিকৃতিকেই লালন করবে।
পরিবারের উচিত জনসমক্ষে এই আচরণের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং স্পষ্ট করা যে, তারা এই অপরাধকে সমর্থন করে না। অপরাধীর ব্লাড কানেকশন যেন ন্যায়ের পথে বাধা না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে মেডিকেল এথিক্স এবং প্রাইভেসি আইন (যেমন HIPAA) অত্যন্ত কঠোর। সেখানে এমন ঘটনা ঘটলে প্রমাণ পাওয়া মাত্রই তার মেডিকেল বোর্ড লাইসেন্স স্থায়িভাবে বাতিল (Permanent Revocation) করতো। সে দেশটির কোনো অঙ্গরাজ্যেই আর ডাক্তার হিসেবে কাজ করতে পারতো না। Invasion of Privacy এবং Voyeurism আইনের অধীনে তার কয়েক বছরের জেল হতো। তাকে আজীবনের জন্য Registered Sex Offender হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হতো। এর ফলে সে কোনো স্কুলে, হাসপাতালে বা জনবহুল এলাকায় কাজ বা বসবাস করার ক্ষেত্রে কঠোর আইনি বাধার মুখে পড়তো। তার প্রোফাইল ইন্টারনেটে পাবলিক থাকতো যাতে সবাই জানতে পারে সে একজন অপরাধী।
বিএমডিসি (BMDC) থেকে তার রেজিস্ট্রেশন আজীবনের জন্য বাতিল করতে হবে। যাতে সে কোনোদিন মানুষের স্পর্শে আসার সুযোগ না পায়।
হাসপাতালের প্রতিটি সংবেদনশীল জায়গায় নিয়মিত সিকিউরিটি অডিট করতে হবে যাতে কোনো হিডেন ডিভাইস না থাকে।
এই ইন্টার্ন ডাক্তারের বিচার যেন দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এমন দুঃসাহস দেখানোর আগে হাজারবার ভাবে।
যে হাত দিয়ে মানুষের ক্ষত নিরাময় করার কথা, সেই হাত যদি কারো ইজ্জত হননের যন্ত্র সেট করে, তবে সেই হাতকে আর প্রফেশনাল ইউনিফর্মে দেখার অধিকার আমাদের নেই। সে যদি নারীকে কামনার দৃষ্টিতেই দেখতে চায়, তবে সাদা অ্যাপ্রন খুলে সাধারণ অপরাধীর মতো অন্ধকার গলিতে গিয়ে দাঁড়াক পবিত্র চিকিৎসা পেশার আড়ালে থেকে এমন জঘন্য ভণ্ডামি করার অধিকার তার নেই।