স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী
সকলের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন বরগুনার বেতাগী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কবির। বিদায়বেলা যেন পরিণত হয় এক আবেগঘন মুহূর্তে বিদায় মুহূর্তে কাঁদলেন, কাঁদালেন। গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি অবসরগ্রহণ করেণ। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে তার সহকর্মীরা তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেয়।

বিদায় সংবর্ধনা শেষে তাকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বিদায় চলে যান তাঁর দেশের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার চৈতা গ্রামে। বিদায় মুহূর্তে প্রিয় প্রধান গোলাম কবির চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি, তেমনি কাঁদিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান কবিরের সভাপতিত্বে এবং সহকারি শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান স্বপনের সঞ্চলনায় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছিল ভালোবাসা, সম্মান আর অশ্রুর মিলন। এযেন এক নতুন পুরোনো শিক্ষার্থীর মিলনমেলা, ফুলেল শুভেচ্ছা আর ক্রেস্ট দিয়ে ভালোবাসায় সিক্ত হলেন প্রধান শিক্ষক গোলাম কবির।এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ: সাদ্দাম হোসেন। এসময় বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন বেতাগী সরকারি কলেজে অধ্যক্ষরসমর কুমার বেপারী ও সাবেক বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুর রহমান খোকন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান কবির, সাবেক উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মল্লিক প্রমুখ। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পত্রিকার গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় সুধিজন উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে বারবার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে গোলাম কবিরের। তিনি বলেন, গত ২৮ আগস্ট ২০০৮ খ্রি. যোগদান করি এবং দীর্ঘ ১৭ বছর ২ দিন কর্মজীবন শেষে গত ২৯/১২/২০২৫ তারিখ অবসর নেই। এই বিদ্যালয় শুধু আমার কর্মস্থল নয়, এটি আমার জীবনের অংশ। এখানকার প্রতিটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী আমার পরিবারের সদস্য।”অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সুধিজনেরা বলেন, প্রধান শিক্ষক গোলাম কবির একজন আদর্শ শিক্ষক ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে বিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার নেতৃত্বে শিক্ষার পরিবেশ যেমন উন্নত হয়েছে, তেমনি শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার শিক্ষা পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।বিদায় মুহূর্তে প্রধান অতিথি, প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা ফুল ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয় প্রিয় প্রধান শিক্ষকের হাতে। অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে।
শিক্ষক গোলাম কবির সবার উদ্দেশ্যে দোয়া ও ভালোবাসা রেখে বলেন, “তোমরা মানুষের মতো মানুষ হবে—এইটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ধরেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সেই দৃশ্য ছিল হৃদয়স্পর্শী। দুপুরে বিদায়বেলা তাকে ঘিরে শিক্ষার্থীরা কাঁদলেন, শিক্ষকদের কাঁদালেন।
পরে তাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে সহকর্মীরা বাড়ি পথে নিয়ে গেলে এবং প্রধান শিক্ষক গোলাম কবিরকে ভালোবাসায় ফুলে ফুলে সিক্ত করলেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনে বেতাগী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় যেন হয়ে ওঠে আবেগের এক অনন্য সাক্ষী।