বিশেষ প্রতিবেদন
তালাক দেওয়া স্ত্রীকে ঘর থেকে তাড়ানোর কৌশল হিসাবে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ এনে পাচঁ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে ভুক্তভোগী নারী। রোববার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহন করে বরগুনার সিআইডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৭ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এ মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার হাড়িটানা গ্রামের মুজাহার আলীর ছেলে আমজাদ সর্দারকে। অপর আসামীরা হচ্ছে প্রধান আসামীর আত্মীয় আঃ রহমান, মোঃ কবির, মোঃ হালিম ও মোসাঃ নাসিমা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু।
জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী ও প্রধান আসামীর বাড়ি একই গ্রামে। তাদের ২৫ বছর আগে বিয়ে হয়। ভুক্তভোগী নারী দুটি সন্তানের মা। ওই নারী অন্যদের মতো সুন্দরী না হওয়ায় স্বামী আমজাদ পরনারীতে আসক্ত হয়ে পড়ে। আমজাদ তার স্ত্রীকে তাড়ানোর জন্য মারধর, যৌতুক দাবী করা, হত্যার চেস্টাসহ সব কৌশল ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর গোপনে বাদিকে তালাক দেয়।
বাদি বলেন, আমার স্বামী আমাকে গোপনে তালাক দিয়ে তার ঘরে রেখে একাধিকবার আমার সঙ্গে যৌনসঙ্গম (ধর্ষণ) করেছেন। আমি জানতাম আমজাদ আমার স্বামী। তিনি জানতেন আমি তার তালাক দেওয়া স্ত্রী। আমার স্বামী আমাকে বার বার বাবার বাড়ি যেতে বলেন। আমি সন্তান রেখে বাবার বাড়ি যেতে চাইনি। চলতি মাসের ১০ তারিখ বাড়িতে কেহ না থাকার সুযোগে আমজাদ পরিকল্পিত ভাবে তার বসত ঘরে একটি খোলা কক্ষে সকাল অনুমান ১০ টার সময় আমার সঙ্গে মেলা মেলা করেন। এমন সময় আসামীর আত্মীয় আঃ রহমান, মোঃ কবির, মোঃ হালিম রুমের ফাঁক দিয়ে মোবাইলে ফোনে গোপনে আমার অশ্লীল ছবির ভিডিও ধারণ করে। আসামী আমজাদ অন্য আসামীদের বলেন, তোমাদের ভিডিও করা শেষ হয়েছে। এই সময় আমি উঠে দেখি ওই আসামীরা রুমের বাহিরে দাড়ানো। আসামী আমজাদ আমাকে বলেন, এখন বাবার বাড়ি যেতে পার। তোমাকে অনেকদিন আগে তালাক দেওয়া হয়েছে। বাবার বাড়ি না গেলে এই ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেব। আমি কান্নাকাটি করলে আমজাদ ও অন্য আসামীরা আমাকে মারতে মারতে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। বাড়ির কয়েকজন লোক দেখে পাথরঘাটা থানায় সংবাদ দেয়। থানা থেকে এস,আই মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এসে আমাকে আসামীদের কাছ থেকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা হাসপাতালে ভর্তি করায়। আমি কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে মামলা করি। বাদির দেওয়া আসামী আমজাদের ফোন নম্বরে কল দিলে আমজাদকে পাওয়া যায়নি।