নিজস্ব প্রতিবেদক
বরগুনা জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এতে স্থানীয় জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। বরগুনা সদর ছাড়াও আমতলী, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি করে এবং বেতাগীতে ১টি আলাদা শয্যা করা হয়েছে। জেলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে আসা ৯৮ জনের মধ্যে ২৬ জনের শরীরে হাম এবং একজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহর নেতৃত্বে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।জানা যায়, বরগুনা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে হাম সন্দেহে নতুন করে তিনজন বৃদ্ধসহ বেশ কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া সংক্রমণের ভয়াবহতা বুঝতে ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মেহেদী পারভেজ জানান, গত এক মাসে জেলায় এই প্রকোপ চলছে। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে গড়ে ২০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে আসছেন। গুরুতর রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠিয়ে দিচ্ছি।সংক্রামক এই ব্যাধি মোকাবিলায় জেলায় বর্তমানে ৩০টির বেশি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা যে ভাবে বাড়ে চলছে, তাতে শয্যা সংখ্যা ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, “হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়ে গেছে। গ্রাম পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি। বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান ঝন্টু বলেন, বিগত অর্ন্তবর্তিকালিন সরকারের উচিৎ ছিল হামের টিকা আমদানি করা। তারা স্বাস্থ্যসেবার জন্য কোনো কাজ করেনি। তিনি আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।বরগুনা আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও খাবারে অনীহাসহ শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মুখে ক্ষতও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা গ্রহণই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। আক্রান্তদের সুচিকিৎসার পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আমরা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।