নিজস্ব প্রতিবেদন
বরগুনা জেলাকে হামস্পট ঘোষণার পরে টিকা দেওয়া শুরু করেছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে বরগুনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জেলার বিভিন্ন উপজেলার চিকিৎসক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, বরগুনা জেলা সদর ও পৌরসভার সব স্পটে সরকারি উদ্যোগে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সি সব শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। টিকা দিতে আসা শিলা রাণি বলেন, আমরা এতদিনে আতংকিত ছিলাম। আজকে আমার ছেলেকে টিকা দিতে পেরেছি। আমার ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করিনি। নামজা আক্তার বলেন, আমার তিন বছরের ছেলেকে হামের টিকা দিতে পেরে খুশি হয়েছি।
বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, ইপিআই কার্ড অনুযায়ী শিশুরা ৯ মাস বয়সে এমআর টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ পেয়ে থাকে। যেসব শিশু ইতোমধ্যে দুই ডোজ বা একটি ডোজ গ্রহণ করেছে, তারাও এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় টিকা নিতে পারবে। তবে সর্বশেষ টিকা নেওয়ার পর অন্তত চার সপ্তাহের ব্যবধান থাকতে হবে। যেসব শিশুর আগে হাম হয়েছে তারাও এই টিকা নিতে পারবে। তবে বর্তমানে জ্বর বা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম এক মাসব্যাপী চলবে। তিনি অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার এবং নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ হিসেবে শনিবার চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে বরগুনা জেলার সদর উপজেলা ও পৌরসভাকে হামের হটস্পট ঘোষণা করা হয়েছে।