নিজস্ব প্রতিবেদক
বিয়ের এক বছরের মধ্যে স্ত্রী যৌতুক না দেওয়ায় বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা চেস্টায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসা ভুক্তভোগী গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলটি দাখিল হয়। ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো: ওসমান গনি মামলাটি গ্রহন করে বরগুনার তালতলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে সাত দিনের মধ্যে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার দক্ষিণ আমতলীর মোঃ শাহজাহান মৃধার ছেলে মোঃ সবুজকে (২৪)। অপর আসামি সবুজের বাবা মোঃ শাহজাহান মৃধা ও সবুজের বোন মোসাঃ সাজেদা।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু। জানা যায়, বাদি হাফসা আক্তার অভিযোগ করেন তার ২০২৫ বিয়ে হয়। স্বামী বেকার থাকার কারনে শশুর ও ননদের পরামর্শে ব্যবসা করার জন্য তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে মানসিক যন্ত্রনা দিয়ে আসছে। গৃহবধূ যৌতুক দিতে বারং বার অস্বীকার করে। এতে স্বামী ও তার বাবা বোন গৃহবধূকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় গত মাসের ৩১ মার্চ বিকেল অনুমান ৫ টার সময় গৃহবধূর স্বামী আবারও স্ত্রীর নিকট তিন লাখ যৌতুক দাবি করে। গৃহবধূ যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে স্বামীসহ তিনজন মিলে হত্যার উদ্দেশ্য মারধর শুরু করে। প্রথমে চুল ধরে কির ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়।গৃহবধূ যুগান্তরকে বলেন, আমাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করার জন্য আমার স্বামী গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে। আমি ঘ্যার ঘ্যার শব্দ করি। এমন সময় আমার শশুর এসে আমাকে হত্যা করার জন্য বুকের উপর বার বার লাথি মারে। আমার ননদ হত্যা করার জন্য একটি বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে। আমি আপ্রান চেষ্টা করে বালিশ ধাক্কা দিয়ে ডাক চিৎকার দেই।
প্রতিবেশিরা আসলে আসামিরা আমাকে আর হত্যা করতে পারেনি। সংবাদ পেয়ে আমার বাবা মোঃ আল আমিন এসে আমাকে বরগুনা হাসপাতালে চিকিৎসা করায়। আমি এখনো গলা দিয়ে কিছু খেতে পারি না। গলা ফুলে উঠছে। বুকে প্রচন্ড ব্যথা। পিপি রনজুয়ারা সিপু যুগান্তরকে বলেন, আসামীরা জঘন্য অপরাধ করেছে। এদের শাস্তি হওয়া উচিৎ। এমন করেই তো গুহবধূরা প্রান দেয়। আসামি সবুজের ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।