নিজস্ব প্রতিবেদক
বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় চারজন গণমাধ্যম কর্মিকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। সোমবার বরগুনার দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: আনোয়ার হোসেন এ আদেশ দিয়েছেন। অব্যাহতি প্রাপ্ত আসামীরা হলো, সফিকুল ইসলাম রাসেল, মো: জয়নাল আবেদীন রাজু, ইত্তিজা হাসান ও মো: মেজবাহ উদ্দিন। এরা বরগুনা জেলায় বিভিন্ন টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত আছেন।জানা যায়, বরগুনার সাবেক জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: জসিম উদ্দিন বরগুনায় ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর যোগদান করেন। গত কয়েক মাস ধরে ওই গণমাধ্যম কর্মিরা বাদীর আফিসে এসে চাঁদা দাবী করে। বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০ টায় বাদির অফিসে ঢুকে ওই চারজন গণমাধ্যম কর্মি চাঁদা দাবী করে। বাদী আবারও চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বাদীর সাথে দূর্ব্যবহার করে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাদির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। এতে বাদীর দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম নষ্ট হয়। বাদি অফিসিয়াল ভাবে একটি অভিযোগ আদালতে পাঠিয়ে দেয়। আদালত বাদি অভিযোগটি গত বছরের ৩০ অক্টোবর বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপপরিদর্শক মো: সোহেল রানার উপর ন্যস্ত করেন। উপপরিদর্শক মো: সোহেল রানা মামলাটি তদন্ত শেষে গত বছরের ১১ নভেম্বর ওই চারজন গণমাধ্যম কর্মির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। গণমাধ্যম কর্মি ইত্তিজা হাসান বলেন, সোমবার আদালতে অভিযোগ শুনানীর জন্য ছিল। আমাদের আইনজীবীরা আদালতকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন আমরা নির্দোষ। আমরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য বাদির কাছে তথ্য চেয়েছি। বাদি নিপা নামের একজন নারীকে বিয়ে করে অফিস কক্ষে সংসার পেতেছেন। ওই নারীর নিকট শিক্ষা অফিসার যৌতুক দাবি করে নির্যাতনও করেছেন। নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এ কারনে তাকে বদলি করা হয়। আদালত সব কিছু দেখে আমাদেরকে অব্যাহতি দিয়েছেন। একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় আমরা দীর্ঘদিন জেল খেটেছি।এ ব্যাপারে সাবেক জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: জসিম উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, আমি শুনেছি আদালত আসামীদের অব্যাহতি দিয়েছে। কেনো অব্যাহতি দিয়েছে তা জানিনা। আমি এখনো ম্যাসেজ পাইনি। এ ব্যাপারে পরে কথা বলব।