লিটন কুমার ঢালী, বেতাগী:
উপকূলীয় উপজেলা বেতাগীতে শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। রাতের হিমেল বাতাস ও ভোরের কুয়াশা যেন শীতের বেড়েছে। এদিকে শীতের এই প্রকোপ শুরু হতেই বেতাগীর বিভিন্ন বাজারের শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাজারজুড়ে শীতবস্ত্র কেনার ধুম লেগেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেতাগী পৌর শহরের বাজার, পুটিয়াখালী বাজার, বিবিচিনি ইউনিয়নের ডিসির হাট, মোকামিয়া বাজার, কুমড়াখালী বাজার, কাউনিয়া বাজার, চান্দখালী বাজার, সরিষামুড়ি বাজার ও আশপাশের এলাকার পোশাক ব্যবসায়ীদের দোকানে এখন ভিড় বেড়েছে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সবাই শীত নিবারণী পোশাক কেনার জন্য ছুটছেন ভাসমান দোকানে । রাস্তার পাশের দোকান থেকে সাধারণত: নিম্ন আয়ের মানুষেরা সোয়েটার, জ্যাকেট, শাল, মাফলারের পাশাপাশি কম্বল, কাঁথা, হুডি, গরম মোজা, উলের টুপি—সবকিছুরই কিনে নিচ্ছেন। ফুটপাতের এসব দোকানিরা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর শীতের অনুভূতি একটু আগেভাগেই আসায় ব্যবসায়ীরাও নতুন মাল তুলতে বাধ্য হয়েছেন।
বেতাগী পৌর শহরের পোশাক ব্যবসায়ী মো. শিপন খান বলেন, “এ বছর শীত একটু আগে এসেছে, তাই ক্রেতার চাপও বেশি। আমরা নতুন ডিজাইনের মাল তুলেছি। বিশেষ করে শিশুদের পোশাক আর মহিলাদের শাল ও কার্ডিগানের প্রতি বেশি চাহিদা।” বেতাগী পৌর শহরে হাটের দিন ফুটপাতের দোকানে শীতবস্ত্র বিক্রি করতে আসা আবুল কালাম বলেন, “ভালো মানের শীতবস্ত্র আনায় খরচও একটু বেশি পড়ছে, তাই দামে সামান্য ওঠানামা আছে।”
ক্রেতাদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন কিছু দোকানে শীতবস্ত্রের দাম তুলনামূলক বেশি। এ বিষয়ে ক্রেতা রাবেয়া আক্তার বলেন, “গতবার যে সোয়েটার ৫৫০ টাকায় কিনেছি, এ বছর সেটার দাম ৬৫০–৭০০ টাকা চাইছে। তারপরও শীত তো পড়ছেই, কিনতেই হবে।” তবে অনেক ক্রেতা বলেন, বিভিন্ন দোকানে ঘুরে দেখলে ভালো দামে মানসম্মত পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারিতে দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং মানসম্মত পণ্য আমদানির কারণে খুচরা বাজারে দামের প্রভাব পড়ছে। তবে তারা চেষ্টা করছেন ক্রেতারা যেন আর্থিক চাপে না পড়ে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র কিনতে পারেন।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্যও কম দামের শীতবস্ত্রের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যেও সোয়েটার, হুডি ও মোটা কাপড়ের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে কর্মজীবী মানুষেরও শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পোশাক কেনা সহজ হচ্ছে।
পৌর শহরে , ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে প্রকৃত শীত জেঁকে বসলে ক্রেতার চাপ আরও কয়েকগুণ বাড়বে। ফলে শীতবস্ত্রের বেচাকেনা পুরো মৌসুম জুড়ে জমজমাট থাকবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
শীতের আগমনে বাজারজুড়ে যে উচ্ছ্বাস ও ব্যস্ততা তৈরি হয়েছে, তা দেখে ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে চলতি মৌসুমকে লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করছেন। শীত যত বাড়বে, শীতবস্ত্রের বাজার ততই জমে উঠবে বলে জানাচ্ছেন সবাই।