মুন্না খান শাহীন নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনা পৌর শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে আকাশ (২৮) নামে এক বিক্রয়কর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে শহরের কুড়পাড় পুলিশ লাইনস-সংলগ্ন গ্যাস অফিসের পেছনে অবস্থিত একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।নিহত আকাশ নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের দেশীউড়া গ্রামের মৃত সোহরাব মিয়ার একমাত্র ছেলে। তিনি নেত্রকোনা শহরের বনোয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত ওয়ালটন প্লাজায় বিক্রয়কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবা-মা মারা যাওয়ার পর আকাশ চাকরির সুবাদে তার চাচাতো ভাই মাহবুবুল আলমের বাসার একটি পৃথক কক্ষে একাই বসবাস করতেন। গত ৫ আগস্ট মাহবুবুল আলমের শ্বশুরের মৃত্যু হওয়ায় তিনি সপরিবারে সিলেটে চলে যান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে স্বজনদের সঙ্গে আকাশের সর্বশেষ মোবাইল ফোনে কথা হয়। এরপর বুধবার থেকে স্বজন ও সহকর্মীরা একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি।বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সময় ফোন বন্ধ থাকায় সহকর্মী ও স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা বাসায় গিয়ে দেখতে পান কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। স্থানীয় ভাড়াটিয়া ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে অনেক ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করা হয়। এ সময় আকাশের গলায় বৈদ্যুতিক তার পেঁচানো এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, “প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি অন্তত একদিন আগের। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।