স্টাফ রিপোর্টার :
আমিনুর ইসলাম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের উকিয়ারা বাজার সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর একটি শাখা নদী অবরুদ্ধ করে বাঁশের বাঁধ নির্মাণ ও মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মোঃশরিফুল ইসলাম ও তাঁর ব্যবসায়ী অংশীদার গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে নদীর একটি অংশ দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, নদীর ওপর বাঁশ ও জাল দিয়ে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করা হচ্ছে। এতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীর জলজ পরিবেশ ও স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে নদীর একটি বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে বাঁশ ও জাল ব্যবহার করে বাঁধ তৈরি করে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে নদীর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে ব্যক্তিগতভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করে নদীটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে মোঃ শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা আগের দেওয়া বাঁশের বাঁধ সংস্কার করে মাছ চাষ করছিলাম। তবে সম্প্রতি নদীর একপাশের বাঁধ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।এ মাছ চাষ প্রকল্পে গিয়াস উদ্দিন নামে অপর এক ব্যবসায়ী অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন বলেও তিনি জানান।এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বহমান নদী বা জলাশয়ে বাঁধ নির্মাণ করে সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের মাছ চাষের কোনো এখতিয়ার নেই। বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আইনগতভাবে প্রবাহমান নদী বা নদীর শাখা অবরুদ্ধ করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি গুরুতরভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন ২০১৩-এ নদীর অবৈধ দখল অবৈধ স্থাপনা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারের বিষয় কমিশনের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।এ ছাড়া পানি সম্পদের সুরক্ষা, সংরক্ষণ, ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ প্রণীত হয়েছে নদীর পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি সংক্রান্ত ঘটনায় এই আইনের প্রাসঙ্গিক বিধানও কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করতে হবে।অন্যদিকে, মাছ চাষ বা আহরণের সময় নিষিদ্ধ পদ্ধতি নিষিদ্ধ জাল, বিষ প্রয়োগ কিংবা মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের মতো কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। মৎস্য অধিদপ্তরের সরকারি তথ্যেও এ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালাগুলো কার্যকর আইন হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের ধারা ৫-এ আইনের অধীন অপরাধের জন্য দণ্ডের বিধান রয়েছে; তবে কোন উপধারা প্রযোজ্য হবে এবং কী ধরনের দণ্ড হবে, তা তদন্তে প্রমাণিত অপরাধের ধরন ও ঘটনার ওপর নির্ভর করবে।সরকারি জলমহাল হলে বৈধ ইজারা বা বন্দোবস্তের বিষয়টিও আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সরকারি জলমহালের ইজারা থাকলেও কোনো ইজারাদার ইজারার শর্তের বাইরে গিয়ে প্রবাহমান নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করার স্বয়ংক্রিয় অধিকার পান না।অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের মাধ্যমে নদীটির সরকারি শ্রেণি, দাগ, খতিয়ান ও সীমানা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা ও উপজেলা প্রশাসনের নথি থেকে ওই এলাকায় কোনো বৈধ ইজারা, বন্দোবস্ত বা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ সত্য হলে পানি প্রবাহ, নৌ-চলাচল, পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের ওপর এর প্রভাবও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত বাঁশের বাঁধ অপসারণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হোক।তবে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম বাঁধ নির্মাণ ও মাছ চাষের কথা স্বীকার করলেও সেটি বৈধ কোনো অনুমোদন বা ইজারার আওতায় করা হয়েছে কি না, তা সরকারি নথি ও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এখন প্রশাসনের তদন্তেই প্রকৃত ঘটনা ও দায়দায়িত্ব স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দারা মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ, নৌ-চলাচল ও জলজ পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।