সালাউদ্দীন শাহিন, বাঘাইছড়ি রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ
ঐতিহ্য, ভালোবাসা আর শেকড়ের টানে এক হচ্ছে প্রাণের প্রাঙ্গণের সাবেক শিক্ষার্থীরা পাহাড়, হ্রদ আর সম্প্রীতির জনপদ রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি। এই জনপদের দ্বীনি শিক্ষার অন্যতম বাতিঘর ঐতিহ্যবাহী কাচালং দাখিল মাদরাসা। যে প্রতিষ্ঠান যুগ যুগ ধরে আলো ছড়াচ্ছে, মানুষ গড়ছে, আজ সেই প্রাণের প্রতিষ্ঠানকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতের উপর ভরসা করে আগামী ২২ অক্টোবর ২০২৬ ইং, রোজ বৃহস্পতিবার, সকাল ১০ ঘটিকায় কাচালং দাখিল মাদরাসার সুপার মোহাম্মদ ওমর ফারুক মহোদয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মেলন – ২০২৬” এর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভা।এটি শুধু একটি সভা নয়, এটি হবে শেকড়ের সাথে সেতুবন্ধন। দীর্ঘদিন পর একই ছাদের নিচে মিলিত হবেন মাদরাসার কৃতি সাবেক শিক্ষার্থীরা। স্মৃতির পাতা উল্টে, ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তারা পরামর্শ দেবেন কীভাবে তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও আরও উন্নত করা যায়।এই মহতী উদ্যোগ বাঘাইছড়ির শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, ভালোবাসা ও আন্তরিক সহযোগিতায় কাচালং দাখিল মাদরাসা আবারও তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং বাঘাইছড়ির মুখ জাতীয় পর্যায়ে আরও উজ্জ্বল করবে।তাই উক্ত প্রস্তুতি সভায় কাচালং দাখিল মাদরাসার সকল সাবেক ছাত্রকে যথাসময়ে উপস্থিত থেকে নিজেদের মূল্যবান মতামত ও সুপরামর্শ দিয়ে মাদরাসার উন্নয়ন ও সম্মেলনকে সফল করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।কাচালং দাখিল মাদরাসার সুপার মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, কাচালং দাখিল মাদরাসা আমার কাছে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমার স্বপ্ন, আমার পরিবার। কাচালং নদীর মতোই এই প্রতিষ্ঠান বহমান, এই প্রতিষ্ঠান বাঘাইছড়ির হাজারো সন্তানের ঈমান ও জ্ঞানের প্রথম পাঠশালা।আজ আমাদের যে সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আলো ছড়াচ্ছেন, তারা এই মাদরাসারই ফসল। শেকড় কখনো তার বৃক্ষকে ভোলে না। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের শেকড়ের টানে ফিরে আসা এই মাদরাসাকে আবার জাগিয়ে তুলবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রাণের এই বাতিঘরকে এমনভাবে সাজাই যেন আগামী প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারে – আমি কাচালং দাখিল মাদরাসার সন্তান, আমি বাঘাইছড়ির সন্তান। ২২ তারিখের সভায় আপনাদের উপস্থিতি সেই গর্বেরই প্রথম সোপান হবে, ইনশাআল্লাহ।