মোঃ আলমগীর হোসেন
সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও মালিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদীসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে ওই প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ৫০ বছর বয়সী আব্দুল বারীর জ্যেষ্ঠ পুত্র মোঃ উমাইর আজ সাভার মডেল থানায় এই মামলাটি করেন। এতে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পরিদর্শক জানান, মাদ্রাসায় লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা মাদ্রাসা থেকে নগদ ৪৭ লাখ টাকা, ২৩ লাখ টাকা মূল্যের ১২ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ৭ লাখ টাকা মূল্যের অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
পরিদর্শক মোশাররফ বলেন, “আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছিলাম যেন ধর্ষণ মামলার বাদীকে এই লুটপাট ও ভাঙচুরের মামলায় আসামি না করা হয়। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে আসামি করার পক্ষে অবস্থান নেয়। তদন্ত ছাড়া আমরা তাকে গ্রেপ্তার করব না।”
মাদ্রাসার সহকারী প্রশাসক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া মোঃ উমাইর গণমাধ্যমকে জানান, তার বাবার বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলাটি মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার জমি ও সম্পত্তি দখল এবং সম্পদ লুটপাটের উদ্দেশেই তার বাবার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাদ্রাসা থেকে মোট ৭৭ লাখ টাকার নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে এবং ভাঙচুরে ১ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, ধর্ষণ মামলার বাদীকে মাদ্রাসায় লুটপাট ও ভাঙচুরের মামলায় আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধর্ষণের শিকার ভিকটিমের স্বজনেরা।
আব্দুল বারীকে এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারায় তারা পুলিশেরও সমালোচনা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় সহায়তা করা এবং ঘটনা গোপন রাখতে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে সাভারে মাদ্রাসা প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো: আব্দুল বারীর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বারী এখনো পলাতক রয়েছেন। ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মাদ্রাসাটি ঘিরে ফেলে এবং ভাঙচুর চালায়।