লিটন কুমার ঢালী, বেতাগী:
বরগুনার বেতাগী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দাসের পোলা এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও এক ব্যক্তিকে মামলার আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি উজ্জ্বল দেবনাথ (৩৮) দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন, অথচ তাকেই করা হয়েছে মামলার চার নম্বর আসামি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরের দিকে বেতাগী পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ডের দাসের পোলা এলাকায় প্রতিবেশী সুমিত্রা দেবনাথ ও মিলন কর্মকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। ঘটনার পর মিলন কর্মকার বেতাগী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বেতাগী থানার মামলা নম্বর ৬ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, মিলন কর্মকার উজ্জ্বল দেবনাথের দাদু লক্ষীকান্ত দেবনাথের কাছ থেকে একটি অংশের জমি ক্রয় করেন। অভিযোগ রয়েছে, ক্রয়কৃত জমির পরিমাণের চেয়ে বেশি জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে ব্যবহার করে আসছেন মিলন কর্মকার। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
মামলার আসামি উজ্জ্বল দেবনাথ বলেন, “ঘটনার দিন আমি ঢাকায় আমার কর্মস্থলে ছিলাম। ঘটনার বিষয়ে তখন আমি কিছুই জানতাম না। পরে শুনেছি এলাকায় মারামারি হয়েছে। অথচ কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই আমাকে এই মামলার চার নম্বর আসামি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক।”
এদিকে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর আহত দাবি করে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে হাসপাতাল সূত্র জানায়, তারা ভর্তি হলেও বেশিরভাগ সময় হাসপাতালে অবস্থান করেননি। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রোগী ভিজিটিংয়ের সময় তাদের উপস্থিত পাননি এবং হাজিরা খাতায় সংশ্লিষ্ট রোগীদের নিয়মিত উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটা জমিজমা নিয়ে পুরনো বিরোধ। ঘটনার সময় উজ্জ্বল এখানে ছিলেন না, এটা আমরা জানি। তারপরও তাকে আসামি করা হওয়ায় এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।”
এ বিষয়ে বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর মিলন কর্মকার অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে কেউ ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামি হয়েছেন, এমন অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”