1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় প্রাণ গেল IIUC ছাত্রীর, মহাসড়কে লাশ রেখে জানাজা ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী জীবন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েলসহ ৩ জন গ্রেফতার বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে ৫ লক্ষাধিক টাকার সেগুন কাঠ জব্দ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা বাঘাইছড়ি আজও জেলা নয় কেন?প্রশ্ন বাঘাইছড়ির ১ লাখ মানুষের। ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় যৌথ অভিযানে অবৈধ ইট ভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন সীতাকুণ্ডে লোকাল বাস দুর্ঘটনায় আইআইইউসির ছাত্রী মাইশার মৃত্যু, আহত আরও দুই শিক্ষার্থী ৫ চা বাগানে ৯ দিন রেশন, তলব বন্ধ,শ্রমিকের পাশে এমপি পুত্র সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বিমানের আর্থিক অনিয়ম ও যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে সংসদীয় কমিটির কঠোর অবস্থান চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠক নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস : কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাছাই পর্ব শুরু বাঘাইছড়িতে ৩০০ একর ধানি জমি পানির নিচে, খাল খননের দাবিতে কৃষকদের আর্তনাদ

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা বাঘাইছড়ি আজও জেলা নয় কেন?প্রশ্ন বাঘাইছড়ির ১ লাখ মানুষের।

  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

সালাউদ্দীন শাহিন, বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়, অরণ্য, নদী ও সীমান্তঘেরা এক অপার সম্ভাবনার জনপদ বাঘাইছড়ি। এটি শুধু একটি উপজেলা নয় এটি একটি বিশাল ভূখণ্ড, যেখানে পাহাড়ি-বাঙালিসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী বাঘাইছড়ি উপজেলার আয়তন প্রায় ১,৯৩১.২৮ বর্গকিলোমিটার বা ৭০৩ বর্গমাইল। রাঙামাটি জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৪৬ কিলোমিটার সড়কপথে। আয়তনের দিক থেকে এটি রাঙামাটি জেলার সবচেয়ে বড় এবং সরকারি তথ্যে বাংলাদেশেরও সর্ববৃহৎ উপজেলা। জনসংখ্যা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এই বিশাল উপজেলায় বর্তমান জনসংখ্যা ১,০৬,২৮৭ জন। এত বিশাল জনগোষ্ঠীকে একটি উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে রেখে মানুষের প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন এবং অমানবিক।এই বঞ্চনা থেকেই আজ পাহাড়ি-বাঙালি সকলের কণ্ঠে একটাই দাবি বাঘাইছড়িকে জেলা ঘোষণা করতে হবে।কেন বাঘাইছড়িকে জেলা করা প্রয়োজন? ৮টি অকাট্য যুক্তি।১. বিশাল আয়তন জেলা হওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি,বাঘাইছড়ির আয়তন ১,৯৩১ বর্গকিলোমিটার। তুলনার জন্য, রাঙামাটির সবচেয়ে ছোট উপজেলা রাজস্থলীর আয়তন মাত্র ১৪৫ বর্গকিলোমিটার। অর্থাৎ বাঘাইছড়ি রাজস্থলীর চেয়ে ১৩ গুণেরও বেশি বড়। এত বড় ভূখণ্ডকে একটি উপজেলা দিয়ে শাসন করা যায় না।২. জেলা সদর থেকে দীর্ঘ দূরত্ব, সড়কপথে ১৪৬ কিমি, নৌপথে ১৪৪ কিমি। কিন্তু পাহাড়ি রাস্তা, নদী-ছড়া, আবহাওয়া এবং দুর্গমতার কারণে বাস্তব দূরত্ব ৩০০ কিমির সমান। একটি জন্ম সনদ বা জমির খতিয়ানের জন্য একজন গরিব মানুষের ৩ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে ২ দিন সময় নষ্ট হয়।৩. সীমান্তবর্তী ও কৌশলগত গুরুত্ব, বাঘাইছড়ির উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, পূর্বে মিজোরাম। পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, দক্ষিণে লংগদু। এটি বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী ভূখণ্ড। জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত নজরদারি জোরদার করতে এখানে পূর্ণাঙ্গ জেলা প্রশাসন অপরিহার্য।৪. প্রশাসনকে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া, সরকারের মূল দর্শন হওয়া উচিত মানুষকে প্রশাসনের কাছে যেতে হবে না, বরং প্রশাসনকে মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। বাঘাইছড়িকে জেলা করা হলে প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের দোরগোড়ায় আসবে।৫. বহু জাতিগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, এখানে বাঙালিসহ চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখোয়া ও খিয়াং জনগোষ্ঠীর বসবাস। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলের ঐক্যের নাম বাঘাইছড়ি। জেলা দাবি কোনো একটি গোষ্ঠীর নয়, এটি ১ লাখ ৬ হাজার মানুষের সম্মিলিত দাবি।৬. বন, কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদ, সরকারি তথ্য অনুযায়ী বাঘাইছড়িতে প্রায় ৪,০৪,৯২৮ একর বনভূমি এবং ৩০,৬৭৭ একর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। এই বিশাল সম্পদকে কাজে লাগাতে জেলা কাঠামোর বিকল্প নেই।৭.পর্যটনের নতুন দুয়ার সাজেক, উদয়পুর ও মাঝিপাড়া, সাজেক আজ বাংলাদেশের পর্যটনের রাজধানী। কিন্তু শুধু সাজেক নয়, বাঘাইছড়ির উদয়পুর ও মাঝিপাড়া এলাকায় সাজেকের মতোই পাহাড়, মেঘ, ঝরনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে উদয়পুর ও মাঝিপাড়াকে সাজেকের আদলে নতুন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু জেলা প্রশাসন না থাকায় এই সম্ভাবনা অন্ধকারেই রয়ে গেছে।৮. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, বিশাল এই জনপদে আজও একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হাসপাতাল নেই, নেই একটি জেলা জজ আদালত। দুর্গম এলাকার একজন শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য ১৪৬ কিমি পাড়ি দিতে হয়।জেলা হলে কী বদলাবে? জেলা বাস্তবায়ন হলে বাঘাইছড়িতে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হাসপাতাল, জেলা জজ আদালত, জেলা পর্যায়ের সকল সরকারি দপ্তর, উন্নত সড়ক ও ইন্টারনেট এবং সাজেককেন্দ্রিক সমন্বিত পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। এতে স্থানীয়দের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।এলাকাবাসীর মতে, ভৌগোলিক বাস্তবতা, জনসংখ্যা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় বাঘাইছড়িকে আর উপজেলা হিসেবে আটকে রাখা যায় না। এটি এখন জেলা হওয়ার সকল শর্ত পূরণ করে।একজন সচেতন নাগরিক বলেন, আমরা পাহাড়ি-বাঙালি সবাই মিলে একসাথে আছি। আমাদের দাবি বিভাজনের নয়, অন্তর্ভুক্তির। আমরা চাই বাঘাইছড়ি জেলা হোক, উদয়পুর-মাঝিপাড়ার মতো নতুন পর্যটন স্পট তৈরি হোক।সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দাবি বিভাজনের নয়, অধিকারের। আমাদের ছেলেমেয়েরা জেলা শহরে গিয়ে কলেজে পড়তে পারে না, রোগীরা জেলা হাসপাতালে যেতে যেতে রাস্তায় মারা যায়। আর কত?এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বাঘাইছড়িকে জেলা করা এখন সময়ের দাবি। এটি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি ১ লাখ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের জোর দাবি, দ্রুত বাঘাইছড়িকে জেলা ঘোষণা করুন।এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দাবি নয়, এটি ১,৯৩১ বর্গকিলোমিটারের ১ লাখ মানুষের বেঁচে থাকার দাবি।বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা বাঘাইছড়ি আজও জেলা নয় কেন? এ প্রশ্ন আজ ১,৯৩১ বর্গকিলোমিটারের ১ লাখ মানুষের প্রাণের প্রশ্ন। বিশাল এই জনপদে প্রশাসনকে মানুষের দোরগোড়ায় আনতে এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে বাঘাইছড়িকে জেলা ঘোষণা এখন সময়ের দাবি।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...