সালাউদ্দীন শাহিন
বাঘাইছড়ি পার্বত্য অঞ্চলে একজন ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়র মানে শুধু একটি চেয়ার নয়, তিনি একটি জাতি, একটি সমাজের অভিভাবক। সমতলের চেয়ে পাহাড়ের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছানো কঠিন, মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই আগামী নির্বাচনে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাদের ক্ষেত্রে দল-মত নির্বিশেষে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।একজন চেয়ারম্যানের সকালটা কেমন হয়, একবার ভাবুন। তার দরজায় একসাথে ১০ জন মানুষ হাজির।প্রথম জন এসেছে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে তার সন্তান, আর্থিক সহায়তার জন্য। দ্বিতীয় জন এসেছে দুই ভাইয়ের জমির বিরোধ মেটাতে, যেখানে রক্তারক্তির আশঙ্কা। তৃতীয় জন এসেছে তার মেধাবী ছেলের কলেজে ভর্তির টাকা নেই বলে সাহায্য চাইতে। চতুর্থ জন এসেছে মেয়ের বিয়ে দিতে পারছে না বলে সহযোগিতা চাইতে। পঞ্চম জন এসেছে তার পাড়ার রাস্তাটা, কালভার্টটা, ব্রিজটা ভেঙে গেছে, সেটা মেরামতের দাবি নিয়ে।এখন এই ৫ ধরনের ১০ জন মানুষকে একসাথে সন্তুষ্ট করে বিদায় দেওয়া কি একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব?সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন একজন অসাধারণ মানুষের।এতগুলো সমস্যার সমাধান করতে গেলে একজন চেয়ারম্যানকে অবশ্যই তিনটি গুণে গুণান্বিত হতে হবে।১. শিক্ষিত: তাকে আইন বুঝতে হবে, সরকারি বরাদ্দের হিসাব বুঝতে হবে, জায়গা-জমির কাগজপত্র বুঝতে হবে। অশিক্ষিত হলে সে নিজেই দালালের খপ্পরে পড়বে।২. অর্থশালী ও হৃদয়বান: সরকারি বরাদ্দে সবসময় সব সমস্যার সমাধান হয় না। অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে নিজের পকেট থেকে একজন অসহায় রোগীকে, একজন অসহায় বাবাকে সাহায্য করতে হয়। যে নিজেই অভাবী, সে অন্যের অভাব কীভাবে মেটাবে?৩. প্রচন্ড মেধাবী ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন: সবাইকে একসাথে ম্যানেজ করার জন্য দরকার কৌশল, দরকার প্রজ্ঞা। কাকে কিভাবে বুঝিয়ে, আশ্বাস দিয়ে, সম্মানের সাথে বিদায় করতে হবে, সেই কূটনৈতিক বুদ্ধি থাকতে হবে। রাগ দেখিয়ে, ধমক দিয়ে পাহাড়ে নেতৃত্ব দেওয়া যায় না।তাই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমাদের প্রত্যাশা, আপনারা সাময়িক সুবিধা বা আঞ্চলিক ভাগ-বাটোয়ারার জন্য এমন কাউকে প্রার্থী করবেন না, যাতে দেশ ও দশের ক্ষতি হয়। এমন কাউকে মনোনয়ন দেবেন না, যে চেয়ারে বসে নিজের আখের গোছাবে।এমন লোককে বাছাই করুন, যে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে পাহাড়কে ভালোবাসে, যে মানুষকে ভালোবাসে। যে সমাজ ও দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারবে। পাহাড়ের মানুষ এখন আর ত্রাণ চায় না, তারা চায় একজন সত্যিকারের অভিভাবক।মনে রাখতে হবে, একটি ভুল মনোনয়ন একটি ইউনিয়নকে ৫ বছর পিছিয়ে দেয়, একটি উপজেলাকে ৫ বছর অন্ধকারে রাখে। আর একটি সঠিক মনোনয়ন বদলে দিতে পারে হাজারো মানুষের ভাগ্য।