চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: মো: মাসুদ ইসলাম
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ৭ নভেম্বরের প্রকৃত চেতনা হচ্ছে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও স্বাধীনতার পর বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই বাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। রক্ষীবাহিনীকে সামনে রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং বহু মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত বিপ্লব দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আধিপত্যবাদী শক্তি সব সময় হুমকিস্বরূপ। তাদের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যারা চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত, তারাই আবার ৭ নভেম্বরের চেতনায় বিশ্বাসের দাবি করেন। অথচ হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যর্থ হতে পারে না। একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বর্তমান সরকারের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনীয় বিষয়ে গণভোটের আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ করা উচিত।সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন।সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রেখে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গণরায় অস্বীকার, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসনব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশ সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্য দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের পাল্টা অভ্যুত্থানের পর ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে বিভিন্ন পক্ষের রাজনৈতিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে এবং জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। সেদিনের ঘটনাপ্রবাহে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। বর্তমান সময়েও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুছ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শফিউল আলম।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান, অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন ও অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আজমসহ মহানগরী ও বিভিন্ন থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।