শাহাব উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।
৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে চট্টগ্রামে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের আয়োজনে শনিবার (৭ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রি.) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি।তিনি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।অনুষ্ঠানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন করেন।শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণে শুরু:অনুষ্ঠানের শুরুতে শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। এই দিবসের মূল চেতনা হলো — জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সংহতি।তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়েই আজকের বাংলাদেশ। তাদের সম্মান রক্ষা করা, তাদের পরিবারের পাশে থাকা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরাও এ সময় তাদের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন:আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পুরস্কার বিতরণ করেন।দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা জানানো হয়।পুরস্কার হাতে পেয়ে বিজয়ীরা আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। শহিদ পরিবারের সদস্যরা এই সম্মাননায় কৃতজ্ঞতা জানান।প্রধান অতিথির বক্তব্য:পুরস্কার বিতরণ শেষে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।তিনি বলেন, শহিদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে সরকার সব সময় আছে এবং থাকবে। তাদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।তিনি তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার এবং ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান।যারা উপস্থিত ছিলেন:অনুষ্ঠানে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।সমাপনী:সবশেষে আয়োজকরা উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা, দেশপ্রেম ও জাতীয় সংহতির অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।