বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বরগুনা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে শোকের আবহ
বিশেষ প্রতিবেদন,বরগুনা
গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকালে ইন্তেকাল করেন। এমন শোকের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বরগুনা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে শোকের আবহ নেমে আসে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি ৭ দিনের শোক কর্মসূচি পালন শুরু করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালো ব্যাজ ধারণ, দলীয় কার্যালয়ের সামনে কালোপতাকা উত্তোলন, কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন। সকাল থেকেই জেলা বিএনপি কার্যালয়ে কোরআন তেলাওয়াত চলতে দেখা যায়।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) র ভাইস চেয়ারম্যান ও বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি।
বেগম জিয়ার মৃত্যুর খবরের পরপরই তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি শোক প্রকাশের সঙ্গে এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুকে নুরুল ইসলাম মনি লেখেন, ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী, দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সমগ্র জাতি আজ এক গভীর শোক ও শূন্যতার মুখোমুখি। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও অবিসংবাদিত এই নেত্রীর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো।
তিনি আরও লেখেন, বেগম জিয়া একজন গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রনায়কে রূপান্তরের যে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বৈশ্বিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাসী উত্থানে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃঢ়তা, শালীনতা ও জাতীয় মর্যাদাবোধের পরিচয় দিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু সংকট, নির্যাতন ও অবিচারের সম্মুখীন হলেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। কারা বরণ, অসুস্থতা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ত্যাগের মধ্য দিয়েও তিনি যে নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার এক উজ্জ্বল বাতিঘর।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আজ তার প্রয়াণে বাংলাদেশ একজন অভিভাবকসুলভ রাষ্ট্রনায়ক, একজন সাহসী নারী নেতৃত্ব এবং একজন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারালো। জাতি হারালো এমন এক মানুষকে, যিনি বিশ্বাস করতেন ক্ষমতার চেয়ে জনগণ বড়, আর রাজনীতির চেয়ে দেশ বড়। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার, দলীয় সহকর্মী ও দেশবাসীকে এই গভীর শোক সইবার শক্তি দান করুন।
এ ছাড়া বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এজেডএম সালেহ ফারুকের নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীরা জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে শোক প্রকাশ করেন। এ সময় নেতারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও গণতন্ত্রহরণের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামী এক আপসহীন নেত্রী। জেল জুলুম, নিপীড়ন, মিথ্যা মামলা ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে তিনি দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রতীক হয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন।
বরগুনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মো.নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন প্রতিবাদের সাহস, আপসহীনতার প্রতীক এবং গণতন্ত্রের বাতিঘর। তাঁর আদর্শ, ত্যাগ ও সংগ্রাম যুগের পর যুগ মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর শূন্যতা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি।