স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী:
সাবেক উপসচিব ও মুক্তিযুদ্ধকালীন বিষয়ক প্রখ্যাত লেখক আব্দুস সোবাহান (৭০) আর নেই। তিনি গতকাল সোমবার সকাল ৬ টা ৩০ মিনিটে ঢাকা একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, একপুত্র ও দুই কন্যা রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে বরগুনাসহ দেশজুড়ে প্রশাসন, সাহিত্যাঙ্গন ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বেতাগী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে গ্রামের নিজ বাড়িতে বরগুনার বেতাগী পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে ধর্মীয় রীতিতে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়েছে। জানাজায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আব্দুস সোবাহান কর্মজীবনে একজন দক্ষ ও সৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা সংরক্ষণে লেখালেখির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর রচিত বিভিন্ন প্রবন্ধ ও গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, স্থানীয় ইতিহাস এবং যুদ্ধকালীন বাস্তবতার চিত্র উঠে এসেছে, যা নতুন প্রজন্মের জন্য তথ্যসমৃদ্ধ দলিল হিসেবে বিবেচিত।
বেতাগীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম ফারুক সিকদার বলেন, আব্দুস সোবাহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে আজীবন কাজ করেছেন। তাঁর লেখালেখি গবেষক ও পাঠকদের কাছে সমাদৃত ছিল। তিনি ব্যক্তিজীবনে ছিলেন বিনয়ী, সাদাসিধে ও মানবিক।
মরহুমের মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকবার্তায় তাঁরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। আব্দুস সোবাহানের মৃত্যুতে দেশ একজন দায়িত্বশীল প্রশাসক ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে নিবেদিত এক লেখককে হারাল বলে মন্তব্য করেন।