বিশেষ প্রতিবেদক,বরগুনা
রং নম্বরে পরিচয় থেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভনে এক কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৫ দিনে কিশোরীকে না পেয়ে তার মা বাদি হয়ে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দুইজনকে আসামী করে একটি মামলা করেছেন। সোমবার ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহন করে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাত দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে বরিশাল জেলার
বাখেরগঞ্জ উপজেলার চরবিশারীকাঠি গ্রামের আবদুর রব হাওলাদারের ছেলে মো: মুনসুর (৩০) ও তার সহযোগী শফিকুল ইসলামকে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু।
মামলার অভিযোগে জনা যায়, বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের দরিকাটা গ্রামের বাদি তার প্রাপ্ত বয়স্ক ২৫ বছরের কিশোরী মেয়েকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। এক বছর আগে আসামী মুনসুর বাদির মেয়ের ফোনে একটি কল দেয়। বাদির মেয়ে পরিচয় জানতে চাইলে মুনসুর বলে রং নম্বরে কল গেছে। এরপর থেকে প্রায়ই বাদির মেয়েকে মুনসুর ফোন দিতেন। বাদির মেয়ে ফোনে পরিচয় জানতে চাইলে মুনসুর তার পরিচয় দেয়। এমনি ভাবে বাদির মেয়ে ও মুনসুরের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মুনসুর বাদির মেয়েকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখায়। বিষয়টি বাদি জানতে পারেন। বাদি তার মেয়েকে অপরিচিত ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি নয়। বাদির মেয়ে বিষয়টি মুনসুরকে জানিয়ে দেয় তার পরিবার বিয়ে দিতে রাজি নয়। এতে মুনসুর ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসের ১২ ডিসেম্বর সকাল অনুমান ১০ টার দিকে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার দরিকাটা গ্রামের বয়াতী বাড়ির সামনে কাচা রাস্তার উপর বাদির মেয়ে গেলে মুনসুর ও দার সহযোগী শফিকুল ইসলাম অপহরণ করে নিয়ে যায়। বাদির মেয়েকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণ করে নেওয়ার সময় জনৈক মোকসেদুল দেখে বাদিকে জানায়।
কিশোরীর মেয়ে বলেন, আসামী মুনসুর ও শফিকুল ইসলাম আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোর পূর্বক অপহরণ করে। আমি মোকসেদুলের কাছে সংবাদ পেয়ে মেয়ের ফোনে মুনসুরের নম্বর পেয়ে মুনসুরকে ফোন দিলে বলে আপনার মেয়ে ভালো আছে। আমি মুনসুরের ঠিকানা সংগ্রহ করে আমরা কয়েকজন তার বাড়িতে যাই। একটু সময়ের জন্য আমার মেয়ে আমাকে বলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। মুনসুর আমাকে জোর করে ধর্ষণ করে যাচ্ছে। তোমরা আমাকে নিয়ে যাও। এরই মধ্যে মুনসুর ও শফিকুল ইসলাম আমাদের দেখে তাড়িয়ে দেয়। আমার মেয়ে ২৫ দিন মুনসুর ও শফিকুল ইসলামের দখলে আছে। আমি জানি না আমার মেয়ে বেঁচে আছে কিনা। এমনও হতে পারে আসামীরা আমার মেয়েকে হত্যা করতে পারে। বিদেশে পাচার করতে পারে। আমার মেয়েকে মুনসুর ও শফিকুল ইসলামের দখল দেখে উদ্ধার চাই। মুনসুরের ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।
এম মজিবুল হক কিসলু