মোঃ বজলুর রহমান মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামে রাতের আঁধারে অবৈধ মাটি কাটার তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, রাস্তার পাশের গাছ নষ্ট এবং ফসলি জমি কেটে মাটি পাচারের মতো ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, কুড়িখোলা চক এলাকার ত্রি-ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে একটি ইটভাটার মালিক আবু বকর জড়িত। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আরেক ইটভাটার মালিক মোহর আলীর গাড়িও রাতের বেলায় ওই রাস্তায় চলাচল করে ভাঙচুর চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক ইঞ্জিনিয়ার জানান,“মোহর আলীর গাড়ি দিয়ে আমার বাড়ির একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, যে গাড়ি ভেঙেছে, তাকে ধরতে।”ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে উপায়ান্তর না পেয়ে অনেক পরিবার তাদের বাড়ির সামনে গর্ত খুঁড়ে রেখেছে, যাতে ভারী ট্রাক ঘরবাড়ির কাছে আসতে না পারে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল শিক্ষার্থীরাও—নতুন বছরের বই হাতে পেলেও আতঙ্কে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না তারা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমির মালিক বলেন,“রাস্তাটি আমার জমির ওপর দিয়ে গেছে—এতে আপত্তি নেই। কিন্তু তারা আমার লাগানো গাছ ভেঙে দিয়েছে, সবজির বেড়া নষ্ট করেছে এবং জমির সীমানায় বড় ক্ষতি করেছে। আমি সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চাই।”এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অবৈধ ভাটার মালিক হিসেবে অভিযুক্ত আবু বকরের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে ভাটার মালিক মোহর আলী বলেন,“আমার ভাটার কোনো কিছু বিক্রি হয় না, আমার কোনো গাড়ি ওই রাস্তায় চলে না।”তবে তার এই বক্তব্যকে স্থানীয়রা মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন।এ প্রসঙ্গে আটিগ্রাম ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সুশীল মণ্ডল জানান,“এ পর্যন্ত আমার কাছে লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি।”স্থানীয় গ্রামবাসীর দাবি, নিজ ভূমিতে নিরাপদে বসবাস করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার হরণকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
